ইস্টবেঙ্গলের ভবিষৎ কোন পথে? কোয়েসের সাথে বিচ্ছেদ কবে সম্ভব? আরো কিছু খবর জানতে পড়ুন।

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 5:21 PM 4th June 2020 .

শেষ কিছুদিন ধরেই আমাদের কাছে অনুরোধ আসছে বর্তমানে তৈরি হওয়া ডামাডোলের বিষয় কিছু লিখতে। আসলে আমরা কোনো খবর করার আগে তার সত্যতা যাচাই করে নিতে বারংবার পছন্দ করি, তাই হয়তো সে বিষয়ে লিখতে একটু সময় লেগে যায় আমাদের। উপরন্তু একই বিষয়ে প্রত্যেকদিন লেখার সত্যিই কিছু থাকেনা যদি না নতুন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাই হোক, মূল প্রসঙ্গে ফিরি, ইস্টবেঙ্গল-কোয়েসের বিচ্ছেদ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উৎকণ্ঠা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যে। সেই বিষয়ই আমাদের কাছে থাকা তথ্য আমরা আপনাদের কে জানাবো।

ফুটবল রাইটস ট্রান্সফার নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিবাদ, যেটা খুব সহজেই মিটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল সেটা হয়তো অতটা সহজে হবেনা। আমাদের কাছে থাকা খবর অনুযায়ী, কোয়েস কতৃপক্ষ ইস্টবেঙ্গলকে জানায় তাদের এই বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। তাদের আইনজীবীরা সবদিক বিবেচনা করে তবেই ফুটবল রাইটস হস্তান্তর করবে। লাল হলুদ তার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয় আরো কিছুদিন অপেক্ষা করার। তা ছাড়াও ক্লাবেরও কিছু পাওনা গন্ডার ব্যাপার আছে, যেগুলো আদায় করতে বদ্ধপরিকর লাল-হলুদ থিংক ট্যাংক। মিডিয়া বা সমর্থকদের চাপে পড়ে খেই হারিয়ে ফেলতে নারাজ লাল-হলুদ কর্তারা, তারা কিছুদিন প্রতীক্ষা করতে প্রস্তুত। আপাতত এই বিষয়টাকে বড় আকার দেওয়ার পথে হাটতে চাইছেন না কর্তারা, তাদের বিশ্বাস আলোচনার মাধ্যমে সব কিছু সমাধান হয়ে যাবে খুব শীঘ্রই। তবুও যতই তাড়াতাড়ি হোক সে কাজ তাও কোনোভাবেই এখনো দু-তিন সপ্তাহের আগে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের কাছে ফুটবল রাইটস ফিরছেনা বলেই খবর।

এবার সমর্থকদের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে এতটা লম্বা সময় লাগতে পারে জেনেও কেন দুই তরফ থেকে তড়িঘড়ি মীমাংসার রাস্তায় হাটলো না কেউই সময় থাকতে থাকতে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া মার্চে শুরু হলে গেলেও মাঝের দেড় থেকে দু মাস লক-ডাউনের জন্য পুরো বিষয়টা বন্ধ থাকে, যার ফলে পুরো প্রক্রিয়াটাই পিছিয়ে যায়। এখন জুন মাসে এসে লোকডাউন শিথিল হওয়ার পরে এই বিষয় আবার কাজ শুরু হয়ে, তবে মাঝের সময়টা মূল্যবান হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের জন্য। এখন কর্তাদের একটাই লক্ষ যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে দু মাসের কাজ অন্তত এক মাসের মধ্যে শেষ করা।

আপাতত পুরো বিষয়টাকে তিন ভাবে ভাগ করলে দেখা যাবে : কোয়েসের সাথে পাকাপাকিভাবে বিচ্ছেদ এবং ফুটবল রাইটস ফেরত পাওয়া – নতুন কাগজপত্র তৈরি করে তা ফেডারেশনে জমা করে এনওসি জোগাড় করা – তার ভিত্তিতে নতুন ইনভেস্টরের সাথে চুক্তি পাকা করা এবং তা সরকারিভাবে ঘোষণা করা। এই পুরো প্রক্রিয়াটা নেহাত সামান্য নয় এবং তার জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে কর্মকর্তা থেকে সমর্থক সবাইকেই। তাই পূর্বে জুন মাসে কিছু ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত জুন মাসে আর কিছুই হবেনা বলে ধরে নেওয়া যায়। তার অন্যতম কারণ হয়তো এখনো কোনো ইনভেস্টরের সাথে পাকাপাকি কিছু না হওয়া, যে যতই সোশ্যাল মিডিয়াতে রোজ নতুন নাম ঘুরতে থাকুক। ইনভেস্টরদের সাথে কথাবার্তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও লকডাউন শিথিল হওয়ার ফলে তা দ্রুতই ফলপ্রসূ হবে বলে কর্তাদের বিশ্বাস।

সমর্থকরা ধৈর্য্য ধরতে না পারলেও কর্তারা একটুও ধৈর্য্য হারাচ্ছেন না। তারা মনে করছেন পুরো বিষয়টা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে এবং যেহেতু এবছরে নভেম্বরের আগে খেলা শুরু হবেনা তাই তাদের হাতে এখনো আগস্ট পর্যন্ত সময় আছে ধীরে সুস্থে সব সমস্যার সমাধান করে লাল-হলুদকে সাফল্যের রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।

কিছু মিডিয়া শুধু শুধু সমর্থকদের তাতিয়ে দিয়ে তাদের ব্যাতিব্যস্ত করে তুলছেন বলে মনে করছে লাল-হলুদ কর্তারা। তারা মনে করেন সব কিছু করতেই একটা নির্দিষ্ট সময় লাগে এবং সেটা সমর্থকদেরও বুঝতে হবে। ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল খেলানোর বিষয়ও আত্মবিশ্বাসী লাল-হলুদ শিবির। তাই, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা যতই অধৈর্য হয়ে পড়ুন তাদের এখনো নূন্যতম এক-দেড় মাস অপেক্ষা করতেই হবে।

এছাড়াও ইস্টবেঙ্গল যে সব প্লেয়ারদের নাম ঘোষণা করেছে সামনের মরসুমের জন্য তাদের চুক্তি বৈধ না বলে খবর ছড়ালেও, যেহেতু কোয়েসের হাতে ফুটবল রাইটস তাই সেগুলো ফেডারেশনের কাছে বৈধ হবেনা এটাই স্বাভাবিক। এটার মধ্যে নতুন কিছু দেখছেন না লাল-হলুদ কর্তারা, তারা অবাক হচ্ছে এই ভেবে যে এটা নিয়ে এত কোলাহল কেন তৈরি হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল কর্তারা পরিষ্কারভাবে সকল ফুটবলার এবং এজেন্টদের জানিয়েছিলেন এই বিষয়টা, এবং সব জেনেই তারা সম্মত দেয়, ক্লাবের তৈরি চুক্তিপত্রে তারা সই করে অগ্রিম নিয়েছেন সব জেনেই। তাই, যে যাই বলুক বা লিখুক এইসব বিষয় নিয়ে এজেন্ট বা ক্লাব কর্তারা কেউই বিশেষ চিন্তিত নন। আপাতত বর্তমান পরিস্থিতি উপরে ভিত্তি করে আগস্ট মাসের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে সেপ্টেম্বর থেকে প্র্যাক্টিসে নামবে দল এই পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছেন লাল-হলুদ কর্তারা। ফেডারেশনের কাছে প্লেয়ারদের বিষয় বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা আগস্টের শেষ পর্যন্ত আছে তাই ওই বিষয়টাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না লাল-হলুদ কর্তারা। এই মরসুমের জন্য এরপরে দু-একজন তরুণ প্লেয়ারকে সই করানো হলেও হতে পারে তবে মূল ভারতীয় দল তৈরি হয়ে গেছে বলেই ধারণা লাল-হলুদ কর্তাদের, আর তেমন কোনো নতুন প্লেয়ার নেওয়ার পরিকল্পনা নেই তাদের।

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap