চরম দুর্ব্যবহারের শিকার জনি, লজ্জায় মাথা হেট ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের।

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 2:49 PM 18th June 2020 .

যেহেতু ইস্টবেঙ্গল ফ্যান্স ক্লাবের নিউস পোর্টাল তাই মিষ্টি-মিষ্টি কথা লেখা হবে সব সময় এটাই হয়তো ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে কাম্য। সেখানে দাঁড়িয়ে এরকম হেডলাইন সত্যিই অনেকের ভালো লাগবেনা, চোখের বিষ হয়ে যাবো হয়তো আমরা। তবে, অন্তত আমার লজ্জায় মাথা হেট হচ্ছে এই প্রতিবেদনটি লেখার সময়, এবার জানিনা আপনাদের কি অনুভূতি হবে আর তার জন্যই এরকম হেডলাইন লিখতে একপ্রকার বাধ্য হলাম।

যে চরম নোংরামির নিদর্শন আমরা চাক্কুষ করলাম ইস্টবেঙ্গল সমর্থক হয়ে কোয়েসের সৌজন্যে তাতে সত্যিই আজ প্রচন্ড লজ্জা হচ্ছে। ইস্টবেঙ্গল হয়তো বেশ কিছু বছর হলো সর্বভারতীয় পর্যায়ে কোনো ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি কিন্তু এরকম কখনো হয়নি যে কোনো লাল-হলুদ প্লেয়ার এতটা দুর্ব্যবহার বা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এবং সেটা যদি হয় একজন বিশ্বকাপার, তাহলে তো লজ্জার শেষ থাকেনা।

দু’মাসের স্যালারি দেওয়া হয়নি জনি একোস্টাকে। তারপরে তাকে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতেও বাধ্য করা হলো কোয়েসের পক্ষ থেকে। বাড়ি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করা হয়নি। ‘কোয়েস কি তবে চাইছিল জনি রাস্তায় থাকুক? এই অসম্মান প্রাপ্য একজন বিশ্বকাপারের?’ বলতে গিয়ে রাগে ফেটে পড়লেন একোস্টার এজেন্ট লুইস রদ্রিগেজ।

অবশেষে কোনো রাস্তা না পেয়ে, দিল্লির কোস্টারিকান দূতাবাসে গিয়ে উঠলেন তিনি। দূতাবাস থেকে ব্যবস্থা করা হচ্ছে এই শনিবার তাকে তার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার যদিও সব খরচ বহন করবেন তিনি নিজেই।

এই বিষয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের থেকেও জানতে চাইলে, দায়ে অস্বীকার করেন সচিব কল্যাণ মজুমদার। তিনি পরিষ্কার জানান তিনি এই বিষয় ভাবিত নন, যেহেতু প্লেয়ারটা কোয়েসের নিযুক্ত তাই তাদেরই দায়িত্ব সব দিক দেখা, এখানে ক্লাবের কোনো ভূমিকা নেই। যখন তাকে জানানো হয় যে জনি এখনো বাড়ি ফিরতে পারেননি তাই বাধ্য হয়ে নিজের দেশের দূতাবাসে গিয়ে রয়েছেন, তখন তিনি পরিষ্কার বলেন যে, জনি কোথায় আছেন সেটা জানার কোনো ইচ্ছা তার নেই, তার যা ইচ্ছা সে করতে পারে। হতেই পারে ক্লাবের সাথে তার চুক্তি নেই, তবুও এরকম অসৌজন্যমূলক বক্তব্য আশা করা হয়নি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সেক্রেটারির থেকেও।

এই বিষয় অজিত আইজাকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বর্তমানে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই তাই তিনি এই বিষয় উত্তর দিতে বাধ্য নন।

তাহলে এখন প্রশ্ন হলো সবাই যদি নিজের দায়িত্ব থেকে এড়িয়ে যায় তাহলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবটা কাদের? শুধুই সমর্থকদের? জনি একোস্টার মতো প্লেয়ার ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছিল সেটা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সম্মান আরো বাড়িয়েছিল এবং বর্তমানে যেটা হলো তার সাথে এতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সম্মান ক্ষুন্ন হলো। তবে তাতে দেখা যাচ্ছে সমর্থকরা ছাড়া সবাই কেমন নির্বিকার।

আর কোয়েস কর্তারা যে বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের সাথে লাল-হলুদের আর সম্পর্ক নেই তাহলে তারা কেন ক্লাবের বকেয়া দু’কোটি টাকা মিটিয়ে না দিয়ে এখনো এনওসি আটকে রেখেছেন যদি লাল-হলুদের সাথে সম্পর্কই না রাখতে হয় তো? একটা গোটা বছর ধরে কম অসম্মানিত হতে হয়নি লাল-হলুদ সমর্থকদের কোয়েসের জন্য, তারপরেও তাদের এই নোংরা খেলা কোথায় গিয়ে শেষ হয় সেটাই দেখার। আর এরকম একটা জঘন্য কোম্পানির বিষয় যাচাই না করেই তাদের হাতে ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জন্য, কোথাও একটা কর্মকর্তারাও এর দায়ে এড়িয়ে যেতে পারেন না।

তবে একোস্টার ম্যানেজার যেটা বললেন সেটা খুব একটা স্বস্তি দেবেন না লাল-হলুদ কে। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, তার এখন প্রধান লক্ষ জনি কে দেশে ফেরানো। এবং জনি দেশে ফেরার পরেই তিনি পুরো বিষয়টা ফিফার কাছে নিয়ে গিয়ে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবেন। তাদের উকিল এই পুরো বিষয়টা দেখে নেবে এবং তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap