মানবিক ইস্টবেঙ্গলের অচেনা রূপ যেন ‘কোয়েস’। চিন্তায় ফুটবলাররা।

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 1:51 PM 20th May 2020 .

প্রতিবেদনের শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলের আগে সকল পাঠককে বর্তমান পরিস্থিতিতে নজর রাখতে অনুরোধ করছি। বহু বছর বাদে সরাসরি বাংলার বুকে কিছুক্ষনের মধ্যেই আছড়ে পড়তে চলেছে সুপার সাইক্লোন ‘আমফান’। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস যদি মিলে যায় তাহলে আমাদের জন্য খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করে আছে। সকলকে অনুরোধ করছি, আগামী ২৪ ঘন্টা বাড়ির বাইরে না বেরোতে এবং সপরিবারে সাবধানে থাকতে।

এবার ইস্টবেঙ্গলের খবরে আসা যাক। কোয়েস যে ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে সরকারিভাবে চলে যাচ্ছে সেটা কারুর অজানা নয়। শেষ মাসের বেতন দিতেও তারা অস্বীকার করে ‘ফোর্স মাজেউর’ ক্লস দেখিয়ে। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই তা আপাতত মেনে নিয়েছেন। আমরা পূর্বেই নানান চিত্রে দেখেছি কতটা পরিশ্রম করে স্প্যানিশ প্লেয়াররা এবং পাহাড়ি ব্রিগেড বাড়ি ফিরেছেন।

তবে সমস্যায় পড়েছেন ইস্টবেঙ্গলের তিন খেলোয়াড় এবং এক সাপোর্ট স্টাফ। দুই বিদেশি জনি একস্টা, কাসিম আইদাড়া ছাড়াও মুম্বাই নিবাসী অভিষেক আম্বেকার এবং স্প্যানিশ সাপোর্টিং স্টাফ কার্লোস নোডার এখনো বাড়ি ফিরতে পারেননি। এবং এখানেই বিপত্তি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে কোয়েস তাদের কে চিঠি ধরিয়েছে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে ২০শে মের মধ্যে।

এবং এখানেই নিজেদের চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে কোয়েস কতৃপক্ষ। প্রফেসনালিসমের নামে অনেক কিছুই বিগত কয়েকদিনে চাপিয়ে দিয়েছেন তারা দলের উপরে এবং ৩১শে মে চলে যাবেন সেই অজুহাতে। তবে, তাদের অন্তত পরিস্থিতিটা বোঝা উচিত ছিল এবং আন্দাজ করা উচিত ছিল যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের বাড়িতে না ফিরে বসে নেই। কোয়েসের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যেহেতু তারা আর সামনের মরশুমে থাকছেনা তাই প্লেয়ারদের থাকা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন তারা এবং ফ্ল্যাট কতৃপক্ষ যেহেতু সানিটাইজ করবে ফ্ল্যাট তার জন্য ফ্লাট ছাড়তে বলা হয়েছে।

যেখানে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে দেখা যাচ্ছে এই দুর্যোগের মধ্যে নানান সমাজ সেবামূলক কাজ করতে, ময়দানের সকল মালিদের পাশে দাঁড়াতে, মানুষের মধ্যে মাস্ক-সানিটাইজার বিলি করতে। দেখা গেছে নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্য দ্রব্য বিলি করতে ঠিক তার উল্টোদিকেই কোয়েসের এই অমানবিক রূপ দেখে হতবাক সাধারণ সমর্থকরা। যদিও কোয়েসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা পুরো চেষ্টা করছেন এই ৪ জনের জন্য কিছু ব্যবস্থা করার। অভিষেক আম্বেকার আগামী দুদিনের মধ্যেই আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই গাড়িতে করে রওনা দেবেন মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই গাড়িতেই পিন্টু মাহাতোর ফেরার কথা মুম্বাই থেকে, যিনি ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে মুম্বাই আটকে যান এবং বিগত দুমাস ধরে ওখানেই আছেন আম্বেকারের বাড়িতে। কার্লোস এবং আইদাড়ার টিকিটেরও ব্যবস্থা করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে এবং তাদেরকেও খুব দ্রুত বাড়ি ফেরাতে পারবে বলে আশ্বাস দিয়েছে কোয়েস কর্তৃপক্ষ। তবে সব থেকে বেশি সমস্যায় হয়তো পড়েছেন বিশ্বকাপার জনি একোস্টা। তাকে বাড়ি ফেরানোর কোনো রাস্তাই খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ। সব কিছু স্বাভাবিক না হলে ওনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম। এবার দেখার যে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়ে তিনি কোথায় থাকবেন বা কার সাহায্যে তিনি সামনের দিনগুলো কাটাবেন।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap