‘মে মাসে আর বেতন নয়!’ জানিয়ে দিলো কোয়েস… পরবর্তী পরিস্থিতিতে কি হতে পারে?

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 6:28 PM 26th April 2020 .

হীরক ঘোষ, ব্যাডজেব ডট কম : ইস্টবেঙ্গল ক্লাব যখন এই বছর প্রথম আইএসএল খেলার সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে তখন আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন খবরের কাগজ আর ওয়েব পর্টালে একটা খবর নিয়ে ফুটবল মহল যথারীতি আলোচনায় মেতে উঠেছে। বিষয়টা হলো, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইনভেস্টর কয়েস কর্প একটা অফিসিয়াল চিঠিতে ইস্টবেঙ্গল প্লেয়ারদের লিখে পাঠিয়েছে যে তারা এই আসছে মে মাসের বকেয়া বেতন খেলোয়াড় সহ কোচিং স্টাফেদের আর দিতে পারবে না।

এই চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই যথারীতি ক্লাবের সমর্থকেরা আবার আশঙ্কায় ভুগছে যে কি হবে? ক্লাবের আইএসএল খেলার ভবিষ্যত কি আবার থমকে যাবে? কারণ খেলোয়াড়রা যদি বেতন না পায় তারা ফিফার কাছে গেলে ক্লাব আবার বিপদে পড়তে পারে যা আইএসএল খেলার উপর প্রশ্নচিহ্ন টেনে দিতে পারে।

এবার মজার কথা হলো এর সাথে ক্লাবের কোচ মারিও রিভেরার নাম জড়িয়ে একটা বাঙলা দৈনিক এই বিষয় নিয়ে খবর করেছিল যেটা মারিও নিজেই খণ্ডন করেছে। এখানে অনেকেই একটা জিনিস ভুল করছেন সেটা হলো মারিও রিভেরা একটা পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে যেখানে তিনি সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বলেছেন যে সেই ব্যক্তি ওনার নামে ভুল বক্তব্য কোট করেছেন। মারিও একবারও বলেননি, কোয়েসের স্যালারি না দেওয়ার খবরটা ভুল। মারিও বিষয়টার বিরোধিতা করেছেন বলে সেই রিপোর্টার লিখেছেন মারিওর বিষয়, মারিও সেটা নিয়েই প্রশ্ন তুলে বলেন যে তিনি কোয়েসের কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। সূত্র অনুযায়ী কোয়েস এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত পাওনা টাকাই খেলোয়াড়দের অগ্রিম দিয়ে দিয়েছে ইনসেনটিভ সমেত (তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার কারণ এই ইনসেন্টিভ টাকেই ধরা হচ্ছে এক প্রকার ক্ষতিপূরণ)।

এখন বিষয়টা হলো যেটা নিয়ে সমস্ত সমর্থকরা চিন্তায় সেটা হলো খেলোয়াড়দের ফিফায় যাবার ব্যাপারে । আর এখানেই সকল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা আশ্বস্ত থাকতে পারেন কারণ ফিফা এই বর্তমান Covid 19 পরিস্থিতিতে নতুন করে কিছু নিয়ম জারি করেছে যেখানে স্পষ্ট বলে হয়েছে কিছু বিষয়,

  • এই অবস্থায় ক্লাব, খেলোয়াড় আর সমস্ত কোচিং স্টাফ নিজেদের মধ্যে বসে একটা উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টা মিটিয়ে নিতে। ফিফা এই বিষয়ে কারো একার পক্ষ গ্রহণ করবে না।
  • উভয় পক্ষকে উভয়ের দিক দেখতে হবে। ফিফা চায় না কেউ সমস্যায় পড়ুক, না ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হোক নাতো প্লেয়াররা।
  • কোনো দেশের ফুটবল বডি যদি এই বর্তমান পরিস্থিতে তাদের সমস্ত ফুটবল সংক্রান্ত বিষয় বন্ধ বা বাতিল করে দেয় ফিফা ধরে নেবে সেই তারিখ পর্যন্তই সমস্ত খেলোয়াড় সহ কোচিং স্টাফেদের চুক্তি ছিলো।

আমাদের দেশে এপ্রিল মাসেই সর্বোচ্চ ফুটবল বডি এআইএফএফ সমস্ত খেলা বাতিল করে দিয়েছে। তাই ফিফার নির্দেশ অনুযায়ী সেই সময়েই এই দেশের ১৯-২০ মরসুমের খেলোয়াড় সহ কোচিং স্টাফদের সমস্ত চুক্তি শেষ হচ্ছে। তাছাড়া সমস্ত চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় আর কোচিং স্টাফদের চুক্তি পত্রে একটা “Force Majeure” ক্লজ থাকে যেটা পরিবর্তিত পরিস্থিতে ব্যবহার করার জন্যই থাকে। তাই সকল ইস্টবেঙ্গল সমর্থক নিশ্চিন্তে থাকতে পারে যে এই বিষয়ে ক্লাবের গায়ে কোনো আঁচ পড়বে না।

তবে পরিশেষে একটা কথা আছে যে ক্লাব কোনো খেলোয়াড় সহ কোচিং স্টাফদের সাথে আলোচনা না করে কোনো চুক্তি বাতিল করতে পারে না। যাদের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি আছে যেমন ধরা যাক এক বিদেশি (কোলাডো) এবং বেশ কয়েকজন স্বদেশী খেলোয়াড়। তাদের যদি পরের মরশুমে না রাখতে চায় তবে তাদের ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিয়ে তবেই চুক্তি বাতিল করতে পারবে ক্লাব। কারণ এই বছর এই করোনার জন্য ছাড় পাওয়া গেলেও পরের বছর কিন্তু সেটা পাওয়া যাবে না সেক্ষেত্রে খেলোয়াড় টি যদি ফিফার দ্বারস্থ হয় ক্লাব বিপদে পড়তে পারে। কারণ ফিফা শুধুমাত্র ক্লাব বোঝে ইনভেস্টর বা স্পন্সর বোঝে না। উদাহরণ কাৎসুমির বিষয়টা, চুক্তিটা ক্লাবের সাথে থাকলেও কোয়েস কে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তেমনি এখন চুক্তি কোয়েসের সাথে থাকলেও ক্ষতিপূরণ ক্লাবকেই দিতে হবে।

আর কোয়েস যেমন বলেছে সেই হিসাবে ক্লাব কর্তাদের সদিচ্ছা থাকলে ক্লাব এখুনি সমস্ত হিসাব মিটিয়ে নিয়ে এই এপ্রিলেই সমস্ত রাইটস কোয়েসের থেকে নিয়ে সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটাক। তাতে ক্লাবেরই লাভ হবে কারণ একটা মাস বেশি ক্লাব হাতে পাবে আর মে মাসেই আইএসএল খেলার ঘোষণা করে দিতে পারবে ফলে নতুন খেলোয়াড় যাদের ক্লাব নতুন মরসুমের জন্য সই করাচ্ছে তাদের কাছে একটা পজিটিভ বার্তা যাবে। এবার দেখার ক্লাব এই সুযোগটা কেমনভাবে কাজে লাগায় অন্যদিকে সমস্যাটার কিভাবে সম্মুখীন হয়।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap