ভারতীয় ফুটবলে সাম্রাজ্য বিস্তার – আইএসএল কাহিনী ফিরে দেখা!

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 5:13 PM 3rd May 2020 .

হীরক ঘোষ, ব্যাডজেব ডট কম : এইতো সেদিনের কথা, তারিখটা ছিলো ২১ শে অক্টোবর ২০১৩ । সেই সময়ের ভারতবর্ষের বুকে চলছিল দেশের এক নম্বর ফুটবল লীগ যার পোশাকি নাম আই লীগ। ঠিক সেই সময় আই লীগের ভরা মরশুমে হঠাৎ সবাই কে চমকে দিয়ে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা এ আই এফ এফ আমেরিকার মেজর সকার লীগ সংক্ষেপে এম এস এল  এর ধাঁচে এক নতুন ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করার কথা ঘোষণা করলো। যার নামকরণ করা হলো ইন্ডিয়ান সুপার লীগ সংক্ষেপে আইএসএল।

জাতীয় ফুটবল লীগ শুরু হবার ঠিক ১০ বছর পরে এ আই এফ এফ এই জাতীয় লীগ কে আরো আকর্ষণীয় এবং একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের ফুটবলের উন্নতি সাধন করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে জি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এর সাথে ১০ বছরের চুক্তি করে এবং জাতীয় ফুটবল লীগের নাম পরিবর্তন করে আই লীগ রাখা হয়। তার আগে জাতীয় লীগ চলছিল চরম অগোছালোভাবে কোনো পেশাদারিত্ব ছিলো না।দেশের কিছু রাজ্য ছাড়া ফুটবল নিয়ে মানুষের মনে তেমন কোনো উৎসাহ ছিল না। তাই ফুটবলের আরো প্রসার ঘটানোই এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিলো। কিন্তু উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু মতবিরোধ হবার জন্য পাঁচ বছর পরেই এই চুক্তি দুই পক্ষের সম্মতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার পাঁচ বছর আগেই বাতিল হয়ে যায় ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে।

২০১০ সালের ৯ ই ডিসেম্বর সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ভারতীয় বাণিজ্যিক সংস্থা রিলায়েন্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর সংস্থা International Management Group (IMG) এর সাথে ৭০০ কোটি টাকার বিনিময়ে ১৫ বছরের জন্য একটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করে, তৈরি হয় এফ এস ডি এল নামে এক কোম্পানি যারা এই আইএসএল টুর্নামেন্টের নেপথ্যে । যে চুক্তির উদ্দ্যেশ্য সম্পর্কে উভয় পক্ষ বলে তাদের একমাত্র লক্ষ্য ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি। তার ফলস্বরূপই এই আইএসএল এর ধ্বনি সূচিত হয়। 

এই নতুন লীগ করার উদ্দেশ্য নিয়ে বলা হয় যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে উপযুক্ত মার্কেটিং এবং পুরোপুরি পেশাদারিত্বের সাথে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি এবং বিকাশ সাধন করা হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আইএসএল এর ঘোষণা হতেই সারা দেশের ফুটবল মানচিত্রে এটা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা থেকে শুরু করে নাম করা সব ফিল্ম স্টার, ক্রিকেট স্টার সবাই এই প্রতিযোগিতার ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে আগ্রহী হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয় জানুয়ারি – মার্চ ২০১৪ এই টুর্নামেন্ট চলবে। পরে সেটাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেপ্টেম্বর মাস ২০১৪। প্রাথমিকভাবে ৮ টা ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে এই লীগ শুরু করার কথা জানানো হয়। যেহেতু লীগ শুরু পিছিয়ে যায় সেই জন্য ৩ য় মার্চ ২০১৪ তে দরপত্র খোলা হয়। এই দরপত্র এক একটা অঞ্চলভিত্তিক ( রাজ্য/ শহর) ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসাবে ঠিক করা হয় এবং নিলাম ডেকে খেলোয়াড় নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এই আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হলো দিল্লি, মুম্বাই, পুনে, ব্যাঙ্গালুরু, কোচি, কলকাতা, গোয়া আর গুয়াহাটি।

মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার , ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি সাথে স্পেনের বিখ্যাত ফুটবল দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও আর পি এস জি গ্রুপ, ফিল্মস্টার জন আব্রাহাম, রণবীর কাপুর, সালমান খান যথাক্রমে কোচি, কলকাতা, গুয়াহাটি, মুম্বাই এবং পুনের ফ্র্যাঞ্চাইজি পান। অপরদিকে দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর, হাতে যায় কিছু কর্পোরেট সংস্থার। যেখানে গোয়ার দুই বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব সালগাওকার এবং দেম্পোর মালিকেরা একসাথে হাতে পায় গোয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি। 

এই আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে ৭ ই মে ২০১৪ তারিখে সর্বপ্রথম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাথলেটিকো দি কলকাতা নামে (এটিকে)। তারপর যথাক্রমে দিল্লি ডায়নামোস, মুম্বাই সিটি এফ সি, পুনে সিটি এর সি, কেরল ব্লাস্টার্স, এফ সি গোয়া, নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এবং ব্যাঙ্গালুরু টাইটানস নিজেদের দলের নাম ঘোষণা করে। কিছুদিন পরে ব্যাঙ্গালুরু টাইটানস ২১ শে আগস্ট ২০১৪ তারিখে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।তাদের পরিবর্তে চেন্নাই শহর থেকে এক নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাইয়িন এফ সি নামের এক নতুন দলের অন্তর্ভুক্তি ঘটে। সারা পৃথিবীতে যাতে এই লীগের প্রচার আর প্রসার ঘটে সেই উদ্দেশ্যে মার্কি খেলোয়াড় নেওয়ার একটি ক্লজ রাখা হয়, সাথে সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে বলে দেওয়া হয় ফুটবলের গ্রাস রুট ডেভলপমেন্ট করতে হবে এটাই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। প্রথম পাঁচ বছর এক শহর এক টিম এই নিয়ম চালু করা হয়। মার্কি খেলোয়াড় রূপে আমরা দেখতে পাই আলসান্দ্র দেল পিয়েরো, লুই গার্সিয়া, ডেভিড জেমস, ডেভিড ট্রেজেগুয়ে, রবার্ট পিরেস, এলানো, দিয়েগো ফোরলান, রবি কেন, হেলদার পস্টিগা সহ বিশ্বের নাম করা তাবড় খেলোয়াড়দের যা এই প্রতিযোগিতার টি আর পি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। 

অক্টোবর ১২, ২০১৪ তারিখে শুরু হয় ভারতবর্ষের ফুটবল ইতিহাসের সবথেকে জাকজমকপূর্ণ এক ঐতিহাসিক ফুটবল লীগের যা আজ এই দেশের ফুটবলের ভাগ্য নিয়ন্ত্রক। প্রত্যেক দিন খেলা দেওয়া হয় সন্ধ্যা বেলায় যাতে বেশিরভাগ লোক দেখতে পারে। স্টার স্পোর্টস সমস্ত ম্যাচ সরাসরি দুর্দান্ত সম্প্রচার শুরু করে। আগেই জানিয়েছি যেহেতু এই টুর্নামেন্ট এমএসএল এর ধাঁচে সাজানো তাই এতে না আছে কোনো প্রমোশন না কোনো রেলিগেশন। প্রতিবছর সেই জন্যে প্রতিটা টিম কে ১৫ কোটি টাকা এবং পাঁচ বছরের জন্য একটা বড়ো অঙ্কের ব্যাংক গ্যারান্টি আইএসএল গভার্নিং বডি কে দিতে হয়। প্রথম তিন বছর এই লীগ কিন্তু ফিফা আর এ এফ সি র কোনো অনুমোদন পায় নি। ২০১৪ সালেই তারা পরিস্কার জানিয়ে দেয় তাদের কাছে আইএসএল শুধুমাত্র একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ভারতে অফিসিয়াল লীগ বলতে তারা শুধু আই লীগ ই বোঝে। ফলে আইএসএল বিজয়ী কোনো এ এফ সি প্রতিযোগিতায় ( AFC Championship, AFC Cup) সুযোগ পেতো না। 

প্রথম বছর কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাথলেটিকো দি কলকাতা সংক্ষেপে এটিকে এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় ফাইনালে কেরালা কে ১-০ গোলে হারিয়ে। তারপর বিগত বছরগুলো থেকে এই বছর পর্যন্ত যথাক্রমে চেন্নাইয়িন এফ সি, এটিকে, চেন্নাইয়িন এফ সি, ব্যাঙ্গালুরু এফ সি, এটিকে এই ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছে। আইএসএল শুরু হবার পর যে সব খেলোয়াড় এতে যোগ দেয় তারা কিন্তু একদম একটা অন্য পরিবেশ পায়। বিদেশে প্রিসিজন ট্রেনিং , উন্নত ড্রেসিং রুম, নামকরা সব কোচ এবং তাদের অত্যাধুনিক ট্রেনিং পদ্ধতি যাতে খেলোয়াড়রা নিজের আরো উন্নতি করতে পারে সাথে পৃথিবী বিখ্যাত সব খেলোয়াড়দের সান্নিধ্য, প্রচুর টাকা নানান রকম সুখ স্বাচ্ছন্দ্য যেটা তারা আগে কোনদিন তেমনভাবে পায় নি। বলাবাহুল্য এইজন্য সব খেলোয়াড়দের আইএসএল খেলাই স্বপ্ন হয়ে উঠতে শুরু করে। যদিও প্রথম দু বছর আই লীগ খেলা ক্লাবগুলোর থেকে লোনে খেলোয়াড়দের নিয়েই এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টিমগুলো নিজেদের টিম তৈরী করতো। পরে কোনো খেলোয়াড়ের তার নিজের ক্লাবের চুক্তি শেষ হলে সরাসরি এই আইএসএল ক্লাবগুলোতেই যোগ দিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

দু বছর রমরমিয়ে চলার পরই আইএসএল এ দর্শকদের উৎসাহে ভাঁটা পড়ে। অপরদিকে ভারতের সবথেকে জনপ্রিয় দুই বড়ো ফুটবল ক্লাব, সারা বিশ্ব জুড়ে যাদের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে সেই ইস্টবেঙ্গল আর মোহন বাগান যেহেতু আই লীগ খেলছে সবার উৎসাহ আই লীগ নিয়েই বেশি। এমত অবস্থায় এফ এস ডি এল ও এ আই এফ এফ সবার অভিমুখ আইএসএল এ ফেরাতে ঠিক করলো আইএসএল কেই দেশের সর্বোচ্চ লীগ হিসাবে তুলে ধরতে হবে আর আই লীগটা কে ধীরে ধীরে এমন অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে হবে যাতে তার অপমৃত্যু ঘটে। সেই মতো দেশের ফুটবল ক্যালেন্ডার নতুনভাবে তৈরী করে প্রথমে ফেডারেশন কাপ নামক টুর্নামেন্টটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আই লীগের সমস্ত সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাতীয় দলের খেলোয়াড় নির্বাচনেও শুধুমাত্র আইএসএল খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে খেলোয়াড়দের ও এক অলিখিত বার্তা দেওয়া হয় যে আই লীগে খেললে তাদের নাম জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হবে না। আই লীগ কে কোণঠাসা করে শুরু হলো আইএসএল কে ভারতের এক নম্বর লীগ করার প্রয়াস। যদিও তৎকালীন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ স্টিফেন কনস্টাটাইন সওয়াল করেছিলেন দুটো লীগ অর্থাৎ আইএসএল আর আই লীগ কে মিশিয়ে দেশে একটাই সর্বোচ্চ লীগ করার জন্য। ২০১৬ সালে মুম্বাইতে ইস্ট বেঙ্গল আর মোহন বাগানসহ অন্য আই লীগ কর্মকর্তাদের নিয়ে এ আই এফ এফ এবং এফ এস ডি এল একটা বৈঠক করে এবং বলা হয় দুই করে টিম কে সব শর্তপূরণ করে (প্রতিবছর ১৫ কোটি এফ এস ডি এল কে দেওয়া আর প্রমোশন ও রেলিগেশন ছাড়া লীগ) আই লীগ থেকে  আইএসএল এ যোগদান করতে সাথে ২০১৭-১৮ সাল থেকে আইএসএল কে দেশের সর্বোচ্চ লীগ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে আই লীগ কে লীগ ওয়ান মানে ২য় ডিভিশন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও এই শর্তে কোনো আই লীগ খেলা ক্লাব রাজী হয় নি। ফলস্বরূপ আই লীগের অবস্থা আরো খারাপ করে দেওয়া হয়। সে সম্প্রচার থেকে শুরু করে ম্যাচ দেওয়ার সময় সব কিছুতেই দিনের পর দিন আই লীগের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার এক অপচেষ্টা আরম্ভ হয়।

কুয়ালালামপুরে ২০১৭ সালে এ আই এফ এফ, এফ এস ডি এল , আই লীগ ক্লাবগুলোর কর্মকর্তা আর এ এফ সি র মধ্যে একটা মিটিং হয়, যেখানে আবার এই একই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। যদিও এইখানেও এ এফ সি আইএসএল কে ভারতের প্রধান লীগ হিসাবে মানতে গররাজি থাকে এবং ইস্ট – মোহন কর্তারা দুটো লীগ মিশিয়ে একটাই লীগ করার নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। এর কয়েক সপ্তাহ পর এ আই এফ এফ প্রস্তাব দেয় যেমন দুটো লীগ পাশাপাশি চলছে তেমনিই চলবে। আই লীগ বিজয়ী যথারীতি AFC Championship , AFC cup এবং আইএসএল বিজয়ী AFC cup Qualification খেলার অধিকার পাবে।২৫ শে জুলাই ২০১৭ তে এ এফ সি এই প্রস্তাব মেনে নেয়। যেহেতু ফেডারেশন কাপ বন্ধ করে দেওয়া হয় তাই সেই স্লট টা আইএসএল কে দেওয়া হয়। এই বছরেই ২০১৭-১৮ সালের ফুটবল ক্যালেন্ডারে আইএসএল এর সময়সীমা বাড়ানো হয় সাথে নতুন দুই দলের জন্য বিড খোলা হয়। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব বিড তোলে কিন্তু যেহেতু এক শহর এক টিম নীয়ম তখনও শেষ হতে দু বছর বাকি ছিলো তাই শিলিগুড়ি থেকে তাদের বিড তুলতে হয়। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব ঠিক করে শিলিগুড়ি থেকেই খেলবে তারপর কোনো এক অজানা কারণে পিছিয়ে আসে ফলে ব্যাঙ্গালুরু এফ সি আর জামশেদপুর এফ সি নামে নতুন দুই দলের আইএসএল এ অন্তর্ভুক্তি ঘটে। এর ঠিক পরের বছর শুরুতেই রিলায়েন্স আইএমজি এর শেয়ার কিনে নেয় এবং আইএসএল এর পুরোটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। প্রতি বছর পয়েন্টের বিচারে প্রথম চারটে টিম যেমন সেমি ফাইনাল খেলে সেই হিসাবেই টুর্নামেন্ট শুরু থেকে এখন হিসাবে চললেও ২০১৯-২০ সাল থেকে সেমি ফাইনালের আগে লিগে শীর্ষস্থান অধিকার করা টিম কে একটি আলাদা শিল্ড দেওয়ার প্রচলন করা হয়। অপর দিকে এ আই এফ এফ আইএসএল কেই দেশের এক নম্বর হিসাবে ঘোষণা করে দেয় এবং সমস্ত এ এফ সি টুর্নামেন্ট এর স্লটগুলো আইএসএল কেই দিয়ে দিয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে আই লীগ দলগুলো এক অদ্ভুত আতান্তরে পরে গেছে। বিশেষ করে ভারতীয় ফুটবলের সব থেকে বড়ো দুই ক্লাব ইস্ট বেঙ্গল আর মোহন বাগান। যদিও গঙ্গাপারের ক্লাব বর্তমানে এটিকের কাছে নিজেদের ৮০% ক্লাবের শেয়ার বিক্রি করে ফেলেছে। এর ফলে এটিকে আর মোহন বাগান সূত্র অনুযায়ী মার্জ করে এক নতুন ক্লাব হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে এটিকের লাইসেন্স এর মাধ্যমে আইএসএল এ অংশগ্রহণ করতে চলেছে। এদিকে গতবছর এফ এস ডি এল ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের ইনভেস্টর কয়েস এর কাছে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের আইএসএল এ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব নিয়ে আসে। সেই সময় ভারতীয় ফুটবলের রোড ম্যাপ এর দাবিতে আই লীগ ক্লাবগুলো নিজেদের মধ্যে ক্লাবজোট তৈরি করে এ আই এফ এফ এর সাথে এক চরম সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এক অস্থিরতা শুরু হয়, পরে অবশ্য সেই জোট এক বিরাট অশ্ব ডিম প্রসব করে এবং ইস্ট বেঙ্গলের আইএসএল খেলা বিশ বাও জলে যায়। 

এই বছর ২০২০-২১ সালে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব আবার উঠে পড়ে লেগেছে আইএসএল খেলার জন্য কারন বর্তমানে আইএসএল হলো দেশের সর্বোচ্চ লীগ আর সেটা খেলতেই হবে। আইএসএল না খেলতে পারলে ক্লাব অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে কোনো AFC আয়োজিত টুর্নামেন্টে ও ক্লাব সুযোগ পাবে না। যদিও ইনভেস্টর কয়েসের সাথে এখনোও সরকারীভাবে ক্লাবের বিচ্ছেদ ঘটেনি । বিচ্ছেদের দিন শোনা যাচ্ছে আগামী ৩১ শে মে ২০২০। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব অবশ্য ফুটবল রাইটস নিজেদের কাছে ফেরৎ পেয়েছে এবং বিভিন্ন শীর্ষ কর্তা প্রকাশ্যে বলেছেন যে এই বছর এই Covid 19 উত্তর পরিস্থিতিতে যদি আইএসএল হয় তাহলে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব অবশ্যই খেলবে যদিও সেটা অফিসিয়ালি ঘোষণা নয়। আইএসএল খেলতে গেলে একটা রিজার্ভ টিম বানাতে হয় যেই টিম আই লীগ ২য় ডিভিশন খেলে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব কিন্তু সেই রাস্তায় হেঁটেই আগামী বছরের দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে। আইএসএল নিয়মিত খেলা কিছু খেলোয়াড় কে সই করিয়ে ক্লাব কর্ম কর্তারা কি সেই ইঙ্গিত দিতে চাইছেন যে ইস্ট বেঙ্গল আইএসএল খেলতে চলেছে ? সেটা সময়ই বলবে, আপাতত আপামর ইস্ট বেঙ্গল জনতা ক্লাব কর্মকর্তাদের দিকেই তাকিয়ে কবে অফিসিয়ালি আইএসএল খেলার ঘোষণা করে ক্লাব ।

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap