ভারতীয় ফুটবলে বাড়ছে বেতন সমস্যা, সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মোহনবাগান ফুটবলাররা।

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 12:21 PM 12th May 2020 .

সারা দেশের অর্থনীতি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তার প্রভাব দেশের খেলাধুলার উপরে যে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক এবং সেটাই ঘটছে ভারতীয় ফুটবলে। ইতিমধ্যেই নানান ক্লাব ‘force majeure’ নিয়ম ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর বা না দেওয়ার বিষয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার থেকে তৈরি হচ্ছে বিতর্ক। এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে পাঁচটা ক্লাবের নাম, তাদের নিয়েই আজ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো যদিও আরো বেশ কিছু ক্লাবের নাম প্রকাশ্যে না এলেও আইলীগ-আইএসএল মিলিয়ে আরো বেশ কিছু দলের শেষ মাসের বেতন এখনো পাননি প্লেয়াররা। কর্তারা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়ায় চুপচাপ আছেন ফুটবলাররা। আসুন আপাতত পাঁচটি ক্লাবের পরিস্থিতির ব্যাপারে জেনে নি :

  1. চেন্নাই সিটি এফসি : আই-লীগের এই ক্লাবটা সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাদের সকল বিদেশি ফুটবলারদের চুক্তি ভঙ্গের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের ক্লাবের সাথে বেশ কিছু বিদেশি খেলোয়াড়ের সামনের মরশুমেও চুক্তি ছিল, যেগুলো তারা বাতিল হিসাবে ঘোষণা করেন। পুরো বেতন মেলেনি এ বছরেরও। আর এতেই বেজায় চটেছেন তাদের খেলোয়াড়রা। কাৎসুমি ইউসা ফিফায় যাবেন বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। বিদেশিদের বক্তব্য ‘force majeure’ নিয়মে বর্তমান পরিস্থিতিতে এক দু-মাসের বেতন না পাওয়া গেলেও, কোনোভাবেই এই নিয়মে পরের মরসুমের জন্য চুক্তি বাতিল হতে পারেনা। এদিকে চেন্নাই সিটি এফসিও তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। এবার বিষয়টা কোথায় গিয়ে থামে সেটাই দেখার।

  • হায়দ্রাবাদ এফসি : সদ্য সমাপ্ত হওয়া আইএসএল সংস্করণে তাদের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে মারাত্মক অভিযোগ। আইএসএল শেষ হওয়ার ৭০ দিন বাদেও তাদের বিশাল পরিমান পেমেন্ট এখনো বাকি। তাদের প্রাক্তন কোচ থেকে বেশ কিছু বিদেশি ফুটবলার আইএসএল কতৃপক্ষের কাছে দারস্থ হন। মোট বকেয়া অর্থের পরিমাণ ৪.৯ কোটি টাকা। বিষয়টা প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটিতে যায় এবং সেই কমিটির পক্ষ থেকে হায়দ্রাবাদ ম্যানেজমেন্টকে ডেডলাইন দিয়ে দেওয়া হয়েছে পেমেন্ট ক্লিয়ার করার বিষয়, তবে সময়ের মধ্যে অদেও করা হবে কিনা সেটা সময় বলবে। তবে যদি এই বকেয়া না মেটানো হয় তাহলে যে তারা শাস্তির মুখে পড়বে সেটা বলাই বাহুল্য।

  • নেরোকা এফসি : ইমফলের এই আইলীগ খেলা ক্লাবটাতেও প্রভাব পড়েছে আর্থিক বেসামাল পরিস্থিতির। এই ক্লাবের প্লেয়ারদেরও শেষ দু মাসের বেতন বাকি। তবে এখানে পরিস্থিতি অতটা অগ্নিগর্ব নয় কারণ, ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বোঝানো হয়েছে তাদের প্লেয়ারদের তাদের আর্থিক পরিস্থিতির বিষয়টা এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে লকডাউন উঠলেই বকেয়া সব মিটিয়ে দেওয়া হবে। এখনো পর্যন্ত সে দলের বিদেশিরা কেউ দেশে ফিরতে পারেননি। তবে কর্তা-খেলোয়াড়দের মধ্যে যেহেতু আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে পৌঁছানো হয়েছে তাই, বিষয়টা আর বড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই এই ক্লাবে।

  • কোয়েস ইস্টবেঙ্গল ক্লাব : কোয়েস যে ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে চলে যাচ্ছে ৩১শে মে, সেটা ভারতীয় ফুটবলে সকলের জানা। এবার সমস্যা তৈরি হয়েছে কোয়েসের পক্ষ থেকে প্লেয়ারদের শেষ মাসের বেতন দিতে নারাজ হওয়ায়। এই সিদ্ধান্ত যে সম্মতি নেই সেটা ফুটবলারদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ম্যানেজমেন্ট কে, যদিও সে বিষয়ে কর্ণপাত করতে আগ্রহী নন কোয়েস ম্যানেজমেন্ট। তাদের পক্ষ থেকে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে সেটাও ফেলে দেওয়ার নয়, তারা জানিয়েছেন যে দলের শেষ প্র্যাক্টিস মার্চের শুরুতে হলেও প্লেয়ার-স্টাফ সবাইকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত বেতন দেওয়া হচ্ছে। সারা মরশুমে হতশ্রী ফলাফলের পরেও তাদের বোনাস দেওয়া হচ্ছে, এরপরেও যদি পরবর্তী পরিস্থিতির বিষয় না ভেবে প্লেয়াররা মাত্র এক মাসের বেতনের না মানিয়ে নিতে পারে তাহলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক এবং তাদের দিক থেকেও কিছু করার নেই। তারা আরোও জানিয়েছেন যে তারা শেষ মাসেরও হাফ স্যালারি দেওয়ার কথা ভেবেছিল, কিন্তু এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে যা আর্থিক অবস্থা তাতে সেটা পেরে ওঠা সত্যিই কঠিন। কোনোরকমের সমাধান না বেড়ানোয়, এবং দুই পক্ষ অনড় থাকায়, কোয়েসের পক্ষ থেকে আবারও মেল করা জানানো হয়েছে প্লেয়ারদের তাদের মতামতের কথা জানাতে ১৫ই মের মধ্যে। তাদের যুক্তি এপ্রিলের স্যালারিও তবেই দেবে তারা যদি প্লেয়াররা NOC দিয়ে দেয় মে মাসের বেতনের ব্যাপারে, সেটা না পাওয়া পর্যন্ত তারা এপ্রিলের বেতনও দেবেন না। এবার প্লেয়ারদের উপরে আরো চাপ তৈরি করতে তারা ডেডলাইন দিয়ে দিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার, এপ্রিলের স্যালারি লাগলে সেটা ১৫ই মের মধ্যে জানাতেই হবে প্লেয়ারদের। কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে যে, যেহেতু ৩১শে মে তারা চলে যাচ্ছে তাই একাউন্ট ক্লোসিং করতে চাইছে তারা। ১৫ মের মধ্যে প্লেয়াররা তাদের পজিটিভ মতামত না জানালে, পরবর্তীকালে আর তারা এই বিষয় দায়ী থাকবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে এফপাই বা প্লেয়াররা যতই হুঙ্কার দিক, বিশেষ লাভ হবেনা কারণ ফিফা অন্তত এই ক্ষেত্রে, বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে অতটা কঠোর হবেনা কোনো ক্লাবের প্রতি।

  • মোহনবাগান এসি : সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি হয়তো মোহনবাগান প্লেয়ারদের, দুর্ভাগ্যজনকও বটে। দলকে আই-লীগ চ্যাম্পিয়ন করিয়েও তিন মাসের বেতন বাকি সব প্লেয়ারের, এমনকি কেউ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পাননি কোনো ইনসেন্টিভও। প্লেয়াররা ভিতরে ভিতরে ফুঁসছেন, যদিও ম্যানেজমেন্টের বারবার অনুরোধে চুপ রয়েছেন তারা। মোহনবাগান আর বেতন বকেয়া যেন সমর্থক শব্দ, কারণ বিগত কিছু বছর ধরে এই এক চিত্রনাট্য দেখে আসছে ময়দান। নানান প্লেয়ার নানান জায়গায় আর্জি জানিয়ে তবেই বকেয়া পান অনেক কষ্টে, কেউ কেউ তাও পান না। এই পরিস্থিতির সমাধান বের করতে না পেরেই বলা যায় এক প্রকার এটিকের সাথে সংযুক্তিকরণ হয় মোহনবাগানের। তবে বর্তমানে এই তিন মাসের বেতন সমস্যা কতদূর যায়, সেটাই দেখার। কর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দ্রুতই মিটিয়ে দেওয়া হবে সব বকেয়া, প্রতীক্ষায় স্বদেশী থেকে বিদেশি সকল ফুটবলার। তবে প্রতিবেদনের শেষে মোহনবাগান খেলোয়াড়দের কুর্নিশ জানাতে আমরা বাধ্য হলাম, এই প্রতিকূল পরিস্থিতেও তারা তাদের দলের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন এবং একটুও মনোসংযোগ নষ্ট না করে দুর্দান্ত খেলেছেন এই কারণে।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap