#FanColumn: “আমার চোখে ফুটবলের সার্বিক উন্নয়ন”

Published by BADGEB on

Last Updated 6:54 PM 5th August 2020 .

শিলাদিত্য দাস, BADGEB: ফুটবলের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে লিখতে বা আলোচনা করতে বসলে দৃষ্টিভঙ্গির অভাব হয় না। বহু পোড় খাওয়া ময়দানি সমর্থক থেকে,বহু অভিজ্ঞ প্রাক্তনী, প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা,অভিমত সঙ্গে নিয়ে হয়তো ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নের পথ রচিত হচ্ছে। লক্ষ্য সবারই এক,ফুটবলের উন্নতি। আমি এই লেখার মাধ্যমে আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলাম, সার্বিকভাবে ফুটবলের উন্নয়নই এই লেখার উদ্দেশ্য।

প্রথম বিষয় হোক পরিকাঠামো। “পরিকাঠামো ঠিক নয়” কথাটা বহু প্রাচীন। পরিকাঠামো আলোচনা করতে বসে প্রথম তুলে নেওয়া যাক অনূর্ধ্ব দশ এর বাচ্চাদের। অনূর্ধ্ব দশ বছরের বাচ্চা মানে সহজ ভাবে বলতে গেলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর বাচ্চাদের বলা হচ্ছে। একটু ভেবে দেখবেন কোলের বাচ্চা যখন প্রথম থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ওঠে, নির্দিষ্ট কিছু সিলেবাস শেষ করে কিছু নতুন শিখে ওঠে। এইভাবে ক্রমাগত এগোতে এগোতে যখন সে পঞ্চম শ্রেণীতে যায়, আমরা নিশ্চিত বলতে পারি, সে নির্দিষ্ট কিছু জানে,যার ফলে তারা পরের শ্রেণীর পড়ার জন্য তৈরী, অনেকে আবার সায়েন্স ট্যালেন্ট আরো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে কারণ তারা জানে তারা কিছু শিখেছে বা এই সমস্ত পরীক্ষায় বসলে তাদের ভালো হবে। আর যারা ভালো ফল করে ,পুরস্কার ও নতুনের দিকে এগোনোর উৎসাহ পায়।

কিন্তু পিছিয়ে হয়তো আমরা এখান থেকেই,যে আমাদের ফুটবলের কোনো সিলেবাস নেই। প্রতি বছর নতুন কিছু শিখে পরের শ্রেণীতে যাওয়ার প্রক্রিয়া নেই। মনে করুন,কোনো এক শ্রেণীতে আমি বল সট্ পাস শিখলাম, আর ট্র্যাপ শিখলাম তাহলে সেই শ্রেণীতে বিভিন্ন কন্ডিশন্ এ আমাকে শুধু ওটাই শেখানো হোক। এই ভাবে যখন একজন ফুটবলারও যখন দশ বছরে যাবে, তখন দেখব ওরাও নির্দিষ্ট কিছু জানে, যেটা কিনা সারা দেশে সমান। এরপর আসি অনূর্ধ্ব পনেরো মানে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বয়সের বাচ্চাদের কথায়। সকলেরই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে তাদের দশম শ্রেণীতে ভালো ফল করতে হবে যাতে তারা নির্দিষ্ট ভালো স্কুলে নিজের পছন্দ মতো বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করতে পারে, মানে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়া ছেলেরা সমাজে পায় বিশেষ সম্মান, ও তারা তখন নির্দিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা প্রাপ্ত।তারা প্রত্যেকেই নিজের নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে এগোয়। মানে আর একটু পরিস্কার করলে বলতে পারি, দশম শ্রেণী পর্যন্ত সিলেবাসের অনেকটাই তাদের আয়ত্তে থাকে কিন্তু,আমাদের ফুটবলে এই দৃশ্য, একরকম অকল্পনীয়। তাই বলে কি আমাদের অনূর্ধ্ব পনেরো দল নেই? হ্যাঁ আছে ,কিন্তু কখনো আমরা বলতে পারিনা, ঐ ছেলেটা ফ্রি কিক্ ভালো মারতে পারবে, ওই ছেলেটার ড্রিবলি‍‍্ দারুণ, ঐ ছেলেটার পাসিং দক্ষতা চোখে পরার মতো।
কিন্তু দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ যেকোনো ছেলেকেই আমরা বলতে পারি, এরা সবাই ত্রিকোণমিতি, কেউ পরিমিতি পারে বা জানে।

সার্বিক উন্নয়নে এইভাবেও ভাবতে পারি আমি। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমরা দেখি পেশা ভিত্তিক কলেজ। কিন্তু ফুটবলকে নির্দিষ্ট করে, স্ট্রাইকারদের কলেজ, ডিফেন্ডারদের কলেজ, হাফ দের কলেজ দেখিনা। দেশে আই. আই. টি, এন.আই.টি আছে, সেখান থেকে কৃতী ছাত্ররা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়,বিদেশে যায়। ফুটবলেও আমরা আমাদের বিভিন্ন ফুটবল ভিত্তিক কলেজ থেকে ভালো প্লেয়ার নিতে পারি, তারাও ওই কম বয়সে বিদেশের উন্নত ক্লাবে খেলতে পারে এবং শেষে নিজের দেশের হয়ে খেলতে পারে। আর্থিক উপার্জন তো সেই ফুটবলার আর আমাদের দেশে দুই পক্ষেই হবে। একটা নির্দিষ্ট পরিকাঠামো এই ভাবেও ভাবা যেতে পারে।

এবার আসা যাক, দৃষ্টিকোণ, আমাদের দৃষ্টিকোণ।
প্রতি বছর দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর মেধা তালিকা বেরোয়,কৃতী ছাত্রদের সম্বর্ধনা তো সমাজের প্রতি ক্ষেত্রে দেওয়া হয়ই। এছাড়াও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম, বিভিন্ন প্রকাশনী হাউসও তাদের সম্বর্ধনা দিতে ভুলে যান না। অথচ দেখুন প্রতি বছর বাংলা থেকেও অনূর্ধ্ব পনেরো বাংলা দল বা অনূর্ধ্ব আঠারো বাংলা দল তৈরী হয়।যারা সেই দলে সুযোগ পায় তাদের কৃতিত্ব ও কি কম? কই সমাজ তো সম্বর্ধনা তেমন ভাবে দেয় না! সংবাদ মাধ্যম কেও তো দেখিনা আর কোনো স্পোর্টস এজেন্সি কেও তো দেখিনা তাদের সম্বর্ধনা দিতে! অবাক লাগলো দেখতে এই বছর(2020) তে পরীক্ষা শেষ না হয়েও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম, সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর লোকেদের আনন্দের শেষ নেই।অথচ ওই মোহনবাগান একাডেমির ছেলেটা ,খেলা ছেড়ে সব্জী বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ঐ ছেলেটাকে আগেও লড়তে হয়েছে, এখনও হচ্ছে, জানিনা ভবিষ্যত কি ?
এমন আলাদা করব আমরাই, আবার, চিকেন পকোড়া আর কোল্ডড্রিঙ্কস হাতে নিয়ে বসে বিজ্ঞর মত বলব, পরিকাঠামোর অভাব, তাই কি হয় দাদা?

আবার দেখুন বিভিন্ন সামাজিক কার্যকলাপের পক্ষে বিপক্ষে বলার জন্য কত টিভি শো হয়, কই একবার ও তো ফুটবল টপিক আসে না!
আবার ভালো করে দেখলে দেখবেন বিভিন্ন খেলার কমেন্ট্রি করতেও পুরনো প্লেয়ারদের দেখা যায় খুবই কম, একমাত্র সুনীল ছেত্রী পারে বাইচুঙ্ পারে, কিন্তু আর তেমন কাউকে দেখিনা।ক্রিকেটে দেখুন বেশীর ভাগই ঠিকঠাক। কিন্তু ব্যাপার টা সত্যি ভাবার নয় কি? প্লেয়ারদের কি অলরাউন্ড ডেভলপমেন্ট করতে পারতাম না ছোটো থেকে? দিতে পারতামনা সচেতনতা? বোঝাতে পারতাম যে খেলার পরের খেলা নিয়ে অনেক কিছু করা যায়। যদি বোঝাতে পারতাম, হয়তো দেখতাম না এ. টি. কে খেলা প্লেয়ারকে এগরোলের দোকান দিতে। দেখতাম না সামান্য সরকারী ক্লার্কের চাকরীর জন্য সারাজীবন পারফর্ম করে আসা প্লেয়ারদের কোনো কারোর কাছে হাত পাততে।
ভাবতে অবাক লাগে শুধুমাত্র ইংলিশ জানেনা বা লোকের সাথে ঠিকঠাক কথা বলতে পারেনা বলে কোচিং লাইসেন্স করাতেও ভয় পায়। না এটাকে অলরাউন্ড ডেভলপমেন্ট বলে না।

•আমার কাছে অলরাউন্ড ডেভলপমেন্ট এ ফুটবলাররা অন দ্যা ফিল্ড অফ দ্যা ফিল্ড প্রফেশনাল হবে।

•কেরিয়ার শেষ হওয়ার পর কাউকে হাত পাততে হবে না।

•শিক্ষার অভাবে অর্জন করা টাকা হারিয়ে দেউলিয়া হতে হবে না।

•বুক চিতিয়ে বলতে পারবে, আমি প্লেয়ার, পারফর্ম করি, পারফর্ম করছি, পারফর্ম করব।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap