“ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা যে দুই ভাগে বিভক্ত হতে পারে, এটা ভাবতেই পারিনি” – একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন দেবজিত ঘোষ

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 2:11 AM 9th May 2020 .

ব্যাডজেব ডট কমের অরিত্র দাস কে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার, আমাদের আসিয়ান কাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন সহকারী কোচ দেবজিত ঘোষ।

প্রশ্ন : তোমার খেলা যারা চাক্ষুষ দেখেছে তারা জানে তোমার ক্যারিয়ার কতটা উজ্জ্বল ছিল, কতটা সাফল্যের সাথে খেলেছো। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে, সেই সময়ের খেলা অতো বেশি ভিডিও রেকর্ডিং আমরা দেখতে পাইনা যেটা এখন পাওয়া যায়, তাই নবীন প্রজন্ম মিস করেছে তোমার খেলা। যে সব খুদে ফুটবলার চোখে স্বপ্ন নিয়ে একটু একটু করে নিজেকে তৈরি করছে ময়দান কাঁপানোর জন্য তাদের জন্য তোমার পরামর্শ?

বললেন : শুধু ফুটবল বলে না, যেকোনো খেলার ক্ষেত্রেই মেন জিনিস হলো ডিসিপ্লিন এবং প্র্যাকটিস। এছাড়াও শেখার ক্ষমতা, নিজের ভুলগুলো কে শুধরে নেওয়া কোচের পরামর্শে, এবং ডেডিক্যাশন গেমের প্রতি – এগুলো যদি থাকে তাহলে একটা প্লেয়ার বড়ো হওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে l তবে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সাথে একটু পড়াশুনাটাও কিছু দূর অব্দি করে রাখাটা প্রয়োজন।

প্রশ্ন : তোমার খেলোয়াড় জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো যদি একটু শেয়ার করো আমাদের সাথে যেগুলো সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে তোমার কাছে।

বললেন : আমি কোনো একটা মুহূর্তের কথা বলবোনা, জীবনের তিনটে মুহূর্ত বলি। এক, আমার অধিনায়কত্বে মোহনবাগান ন্যাশনাল লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০১ এ সেটা, এটাকে একে রাখলাম কারণ খুব কঠিন পরিস্থিতিতে জিতেছিলাম আমরা ‘ডু আর ডাই’ ব্যাপার ছিল। দুই, অবশ্যই আশিয়ান কাপ জেতা l যেটা একদমই অন্যরকম অনুভূতি ভাষায় বলে বোঝানো যায়না। এবং তৃতীয়ত, ন্যাশনাল লেভেলে আমার সাফল্য। প্রথম যেবার সাফ কাপ খেলি আমি ইন্ডিয়ার হয়ে, সেবার আমরা নেপালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, ফাইনালটা পুরোটাই খেলেছিলাম।

প্রশ্ন : আচ্ছা তুমি তো ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান দুটো বড় ক্লাবেই দাপিয়ে খেলেছো নিজের জীবনের সেরা সময়টা। পার্থক্য ঠিক কি অনুভব করেছো দুটো ক্লাবের মধ্যে?

বললেন : দ্যাখ দুটো ক্লাবের এখন বর্তমানে দাঁড়িয়ে খুব একটা পার্থক্য আর নেই। কিন্তু এবার আমাদের সময় বলি, আমি যখন মোহনবাগানে খেলা শুরু শুরু করি তখন বলা হতো যুবভারতী ইস্টবেঙ্গলের। ইস্টবেঙ্গল সমর্থক থেকে শুরু করে প্লেয়াররা আমাদের সময় অনেক বেশি এগ্রেসিভ ছিল। এছাড়াও দুটো ড্রেসিং রুমের পরিবেশ, নিয়ম শৃঙ্খলা আলাদা ছিল।

প্রশ্ন : এক সময়ের নিয়ম ছিল বড় খেলোয়াড়রা খেলা ছাড়ার পরে কলকাতা ময়দানে কোচিং করবে। কিন্তু বিগত দশ বছরে এটা পাল্টে গেছে। এখন দেশের সব বড় ক্লাবের কর্তারা স্বদেশী কোচকে আর দায়িত্ব দেয়না দলের, এটা কি তোমার মনে হয়না যে স্বদেশী প্রাক্তন খেলোয়াড়দের স্কোপ অনেকটা কমে গেল ফুটবলের সাথে যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে?

বললেন : দ্যাখ এই বিষয়টা তোকে আমি বুঝিয়ে বলি, আমার একদমই এটা মনে হয়না। কারণ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আসবে এটাই স্বাভাবিক। এবার কারণ গুলো বলি, D C B A চারটে লাইসেন্স করতে অনেকগুলো বছর সময় লাগে, লাইসেন্স না থাকলে কোচিং করানোর এখন আর প্রশ্নই নেই, কটা ফেমাস প্লেয়ার খেলা ছাড়ার পরে এই লাইসেন্স করায় মনোনিবেশ করে? বলতে পারিস কেউই না, তাই এদের স্কোপ এমনিতেই কমে যাচ্ছে নিয়মের বেড়াজালে। এরপর আসি অন্য একটা প্রসঙ্গে, ভারতের রাঙ্কিং একশোর উর্ধে ফুটবলে, যেই দেশে বিদেশি হিসাবে খেলতে আসছে স্পেন, ইংল্যান্ড, ইতালি থেকে প্লেয়াররা তোর কি মনে হয় সেই দেশের প্লেয়াররা ভারতীয় কোনো কোচকে আর গুরুত্ব দেবে? ফুটবলে পিছিয়ে থাকা একটা দেশের প্রাক্তন প্লেয়ারকে আমার মনে হয়না ওরা গুরুত্ব দেবে বলে, তাই যেটা হওয়ার সেটাই হচ্ছে এবং ঐ কারণেই যে সব প্রাক্তন প্লেয়াররা বর্তমানে কোচিং করাচ্ছেন যেমন, ভেঙ্কটেশ বা ক্লিফোর্ড মিরান্ডা তারা ইন্ডিয়ান অ্যারোজ বা ভারতের বয়সভিত্তিক দলগুলোকে দেখছেন যেখানে বিদেশি খেলোয়াড় নেই।

প্রশ্ন : তোমাদের সময় ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান থেকে ৭০-৮০% প্লেয়ার ইন্ডিয়ান টিম খেলতো, সেখানে এখন একজনও চান্স পায়না। এটা কি মনে হয়না দলগুলো গরিমা হারিয়ে ফেলেছে নিজেদের?

বললেন : ওরে ৭০% না রে ৮০% বা তার বেশি বল। দেখ এটা হচ্ছে কারণ ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান আইএসএলে খেলছে না বলে। ইন্ডিয়ার টপ ফরটি প্লেয়ার ধরে নে আইএসএলে নাম লিখিয়েছে, তো তাহলে এটাই স্বাভাবিক যে কোচ যখন দল করবে, তখন ওই দলগুলো থেকেই প্লেয়ার ডাক পাবে। এই দলগুলোই যখন আবার আইএসএলে খেলবে তখন দেখবি আবার জাতীয় দলের প্লেয়াররা এখানে এসে গেছে।

প্রশ্ন : ইস্টবেঙ্গলের কি আই-লীগ খেলা উচিত না আইএসএল?

বললেন : এই নিয়ে কোনো প্রশ্নই থাকতে পারেনা, আই-লীগ খেলা আর না খেলা একই ব্যাপার। তাই খেললে ইস্টবেঙ্গল কে আইএসএলি খেলতে হবে।

প্রশ্ন : ছয় বছরের একটা দলের সাথে মার্য করে মোহনবাগান নিজেদের আইএসএল খেলার ছাড়পত্র জোগাড় করলো। এই বিষয় তোমার কি বলার? একটা ইতিহাস ফিকে হয়ে গেল? মোহনবাগান কি নিজেদের গরিমা হারালো?

বললেন : মোহনবাগান নিয়ে এখন আমরা কেউই কিছু বলতে পারবো না সামনের পাঁচ বছরে কি পরিস্থিতি দাঁড়াচ্ছে সেটা না দেখে। মোহনবাগান অফিসিয়ালরা নিজেদের ক্লাবের বেশিরভাগ শেয়ার এটিকের কাছে দিলো সেখানে কি কি ক্লজ আছে, কি রং হবে জার্সি, কেমন হবে লোগো, কতটা বজায় থাকবে মোহনবাগানের পরিচিত রূপ সেটা সময় বলবে। এখানে তুই আমি ঘরে বসে এখন কিছুই বলতে পারবো না। তবে এটুকু বলতে পারি এই কঠিন সময় দাঁড়িয়ে, করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে একটা দলকে আইএসএল খেলানো খুব কঠিন কাজ। ৪০-৫০ কোটি টাকার স্পন্সর জোগাড় করে খেলানো খুবই কঠিন কাজ l তাই ওদের হাতে হয়তো আর কোনো অপশন ছিলোনা, যেটা পেলো ওদের কর্তারা সেটাকেই আকড়ে ধরলো দলের স্বার্থে, এবার তারপর এখন মোহনবাগানের কি হবে সেটা সময়ের উপরে পুরোপুরি।

প্রশ্ন : তোমার কথা অনুযায়ী মোহনবাগান কর্মকর্তারা একপ্রকার বাধ্য হয়েই দলটা এটিকের সাথে মার্জ করলো এবং তাহলে তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি জানতে চাইছি তোমার থেকে যে, ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা তো ক্রমাগত বলছেন তারা এবারে দলকে আইএসএলে খেলাবেন সেটা কতটা সম্ভব হবে তোমার মনে হয়? তোমার কাছে কি কোন খবর আছে এই বিষয়, যদি শেয়ার করো একটু?

বললেন : আমি যতদূর জানি ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যেক অফিসিয়াল প্রচন্ড চেষ্টা করছেন দলকে এবারে আইএসএল খেলানোর, নিতু দা প্রচন্ড পরিশ্রম করছেন এই বিষয়। এবার যেটা ব্যাপার সেটা হলো, এফএসডিএলও কিন্তু সমানভাবে চাইছে ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলুক, কারণ ইস্টবেঙ্গল আইএসএল না খেললে মোহনবাগানের অন্তর্ভুক্তির কোনো আলাদা গুরুত্ব থাকবেনা। ভারতীয় ফুটবলের আবেগ বলতে ইস্ট-মোহন এবার তাদের ছাড়া যে ফুটবল হচ্ছে সেটা মানুষ যে দেখছে সেটা শুধুই ভালো ফুটবলের স্বার্থে যেমন ভাবে বিদেশি ফুটবল দেখে। কিন্তু ইস্ট-মোহন আইএসএলে ঢুকলে সেটা হয়ে যাবে ভালো ফুটবলের সাথে আবেগের মিশ্রণ এবং আইএসএল তবেই গিয়ে পূর্ণতা পাবে। তখন হয়তো আর কোটি কোটি টাকা খরচ করতে লাগবেনা প্রচারের জন্য কারণ ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের কয়েক কোটি সমর্থকই মাতিয়ে রেখে দেবে আইএসএল টাকে, তখন আর পয়সা খরচ করে পেপারের ফ্রন্ট পেজে আসতে লাগবেনা আইএসএল কে। তাই এফএসডিএলও চাইছে সমানভাবে ইস্টবেঙ্গল কে আইএসএলে ঢোকাতে, এবার উভয়ের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা সময় বলবে।

প্রশ্ন : ২০১৫ তে শিলিগুড়ি ডার্বি জেতার সময় তুমি ছিলে ইস্টবেঙ্গলের অ্যাসিস্টেন্ট কোচ। ডংয়ের গোলের পরে ওকে জড়িয়ে ধরে তোমার একটা সেলিব্রেশনের ফটো খুব ভাইরাল হয়। যদি একটু সেই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করো।

বললেন : তোকে একটা কথা বলি, আমি হারতে খুব অপছন্দ করি, মানে আমার চিন্তাভাবনা সবসময় হলো যেভাবেই হোক আমাকে জিততে হবে সে যেভাবেই হোক। তো সেই ডার্বিতে প্রত্যেকটা প্লেয়ারের সাথে আলাদা আলাদা করে কথা বলেছিলাম, তাদেরকে মোটিভেট করেছিলাম। সনি ওদের দলে আসার পরে ওদের দল ভালো হয়ে যায় অন্যদিকে ডং প্রথম দল থেকে বাদ পরে এবং মানসিকভাবে ভেঙে পরে, তখন ওকে বলেছিলাম যে, তোমাকে আজকে নামানো হবে, তুমি প্রস্তুত থাকো। শুরুতে না নামানো হলেও তোমাকে কিন্তু আজকে খেলানো হবেই এবং তুমি কি করতে পারো সেটা ডার্বি তে দেখিয়ে দাও। যাই হোক, অ্যাসিস্টেন্ট কোচ হিসেবে যেটুকু আমার করার করেছিলাম, ম্যাচের রেসাল্ট আমাদের ফরে এসেছিল তাই খুশি হয়েছিলাম।

প্রশ্ন : দাদা আমরা দেখছি একে একে আলভিটো, ভাইচুং, চন্দন দা দের মতো প্রাক্তন প্লেয়াররা ইস্টবেঙ্গলের নানান অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের কাজের সাথে যুক্ত হচ্ছে, তোমার কাছে যদি এরকম অফার যায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে দলের অ্যাডমিনিষ্ট্রটিভ দিক সামলানোর বিষয়ে কখনো, তুমি কি সে দায়িত্ব নেবে?

বললেন : তোকে বলি আমি ময়দানে খুব কম যাই খেলা ছাড়ার পর থেকে। মানে আমাকে নিতু দা কখনো ফোন করে কোনো দরকারে ডাকলে তবে যাই বা ময়দানে কোনো কাজ থাকলে তবে যাই তা ছাড়া আমি বিশেষ যাই না। ফুটবল আমাকে যা দিয়েছে আমি তাতেই অনেক খুশি, আমার নতুন করে আর পাওয়ার মতো সত্যিই কিছু নেই তবে অবশ্যই আমাকে ক্লাব কর্তারা কোন বিশেষ দায়িত্বের জন্য ডাকলে নিশ্চয় যাবো, কিন্তু আমি আলাদা করে এইসব নিয়ে কখনো ভাবিনা। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোনো ভালো কাজে আসতে পারলে সেটা আমার জন্যও গর্বের হবে।

প্রশ্ন : কোয়েস জামানা দীর্ঘস্থায়ী হলোনা ইস্টবেঙ্গলে। খুব জোর হলে দেড় থেকে দু বছর তারা রইলো, তারপরে তারা ময়দান ত্যাগ করতে চলেছে। তোমার কি মনে হয় এটা একটা খারাপ বিজ্ঞাপন ময়দানের জন্য? ভবিষ্যতে কোনো ইনভেস্টর ইনভেস্ট করার আগে কি দুবার ভাববে ময়দানের কোনো ক্লাবে?

বললেন : এটার উত্তর দিতে গেলে অনেকগুলো বিষয় আমাকে বলতে হবে, বলছি শোন মন দিয়ে। যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটার জন্য কোনো এক পক্ষের উপরে দোষ চাপানো ঠিক না, দোষ থাকলে দুই পক্ষেরই আছে। এটা না যে নিতুদা রা ওদের সাথে মিলেমিশে কাজ করেনি বা ওদের করতে দেয়নি যেটা অনেকেই প্রচার করছে। প্রথমে বলি, যেটা আমি একশো বছরে দেখিনি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে সেটা হলো ‘পন্থী’, কোয়েস আসার পরেই এই পন্থী কনসেপ্টটার উৎপত্তি হয়। ভাবতে পারিস, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের সারা ভারত চেনে তাদের ইউনিটির জন্য, সেখানে দাঁড়িয়ে কি এমন হলো? কি স্বার্থ জড়িয়ে আছে কিছু সংখ্যক সমর্থকদের? যে তারা বাকি সমর্থকদের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে বিভাজনের রাজনীতি ঢুকিয়ে দিলো? বিশ্বাস কর, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা যে দুভাগে ভাগ হতে পারে এটা কখনো ভাবিনি! এরপর আসি অন্য প্রসঙ্গে, কোয়েস কিন্তু ভোটে জিতে ক্লাবে আসেনি, নিতুদা রাই কিন্তু জায়গা ছেড়েছিল কোয়েসকে তাদের উপরে ভরসা করে, তাহলে কি এমন হলো যে, যারা তোমাদের হাতে ধরে ক্লাবে আনলো তাদেরকেই প্রথমদিন থেকে অবজ্ঞা করা শুরু করলে? এটা নিশ্চিত যে, তারা কিছু খারাপ জিনিস অনুভব করার আগেই কিছু সংখ্যক সমর্থক নিজেদের স্বার্থের জন্য কোয়েসকে ভুল বোঝায় এক্সিস্টিং অফিসিয়ালদের নিয়ে, যার থেকেই এই মনোমালিন্য, এত দূরত্ব এবং ফাইনালি চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে তারা। তারপরে আসি দলগঠনের প্রসঙ্গে, কোয়েসের শেখা উচিত ছিল ইস্টবেঙ্গল অফিসিয়ালদের থেকে কিভাবে দলগঠন করতে হয়, তাদের একটা অভিজ্ঞতা আছে, কোয়েসের দ্বিতীয় মরশুমে তারা পুরোপুরি এজেন্ট ভিত্তিক অফিসে বসে দলগঠন করে নেবে ভেবেছিল এবং সেটা করতে গিয়েই ডুবলো। দলগঠনের কাজ অতটা সহজ নয়, বাইরে থেকে দেখলে যতটা সহজ মনে হয়। ওদের যদি সত্যিই শেখার ইচ্ছা থাকতো তাহলে কয়েক মরশুম আগে কিভাবে দলগঠন করতে হয় সেটার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতো লাল-হলুদের কর্তাদের থেকে। তারপরে বলি, ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী কোয়েসের ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল খেলানো অন্যতম ক্লজ ছিল, তাহলে তুই যখন সেই ভিশন নিয়ে এসেছিস তাহলে তুই জোট বাঁধতে গেলি কেন? দেবাশীষ দা বা রঞ্জিত বাজাজরা গেছিলো জোট বাঁধতে কারণ ওদের হাতে স্পন্সর ছিলোনা, ইনভেস্টর ছিলোনা। তুই সেখানে নিজে ইনভেস্টর হয়ে গেলি কেন ওদের সাথে জোট বাঁধতে? এখান থেকেই বোঝা যায় ভিশনের অভাব। তারপরে আসি আরো একটা প্রসঙ্গে, ইস্টবেঙ্গলের খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিস হতোনা ইস্টবেঙ্গল মাঠে, প্লেয়ারদের বারণ ছিল ক্লাবে যাওয়া, ভাবতে পারিস? এইভাবে একটা দল চলতে পারে? আজকে বার্সিলোনা, রিয়াল মাদ্রিদের প্লেয়াররা তাদের ক্লাবের যাচ্ছেনা কেমন লাগছে শুনতে? এটাই কিন্তু হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে কোয়েস জামানায়। তাই এতগুলো নেগেটিভ কাজের জন্য, কিছু সংখ্যক সমর্থকের উস্কানিতে কোয়েস যে ভুলগুলো করেছে তাতে ঢেকে গেছে তাদের করা অনেক ভালো কাজ। ফলে যেটা হওয়ার সেটাই হলো, তোকে এইটুকু বলি যেভাবে ছিল আর যা পরিস্থিতি হয়ে গেছিলো, তাতে চলে যাওয়া ওদের জন্য এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্য দুই পক্ষের জন্যই ভালো। আমি তো অন্তত মনে করিনা এর প্রভাবে ভবিষ্যতে কোনো ইনভেস্টরের না আসার কারণ হতে পারে।

প্রশ্ন : তোমার চোখে দেখা ভারতের মাটিতে আসা সেরা কোচ কে? সেরা স্বদেশী প্লেয়ার কে? এবং সেরা বিদেশি প্লেয়ার কে?

বললেন : এইরে ডেঞ্জারাস সব কথাবার্তা বলছিস তুই! (কিছুক্ষন হেসে) দ্যাখ সেরা কোচের নামের জায়গায় কোনো একজনের নাম আমি নেবোনা কারণ তাহলে সেটা ভুল হবে। আমি চার জনের থেকে জীবনে অনেক কিছু শিখেছি যেগুলো উল্লেখ না করলে ভুল হবে : সবার আগে বলবো মনা দার (মনোরঞ্জন) কথা, তার থেকে প্রচুর কিছু শিখেছি, আমার মত একটা জুনিয়র ছেলে কে চুয়াল্লিশটা ম্যাচ খেলিয়েছিল এক বছরে, আমার জীবনে তার অবদান ভোলার না। তারপরে খেললাম অমল দার আন্ডারে, অমল দা আমাকে আবার নতুন করে তৈরি করলো। তারপরে পড়লাম বাবলু দার (সুব্রত) হাতে, নতুন করে ডিফেন্সিভ রুলস শিখলাম সেখানে। এবং সর্বশেষে ম্যানেজমেন্ট শিখলাম এসে সুভাষ দার কাছে। তাই নাম নিলে এই চার জনেরই নাম আমাকে নিতে হবে। সেরা বিদেশি বললে আমি একজনেরই নাম নেব, ব্যারেটো l দীর্ঘদিন সাফল্যের সাথে খেলেছে। আর দেশি ফুটবলের বললে অবশ্যই দুজনের নাম নেবো যারা খুব ক্লোজ থাকবে, এক বিজয়ন এবং দ্বিতীয় বাসুদেব মন্ডল।

আলোচনা, গল্প আরো দীর্ঘায়িত ছিল তবে মূল বক্তব্যগুলো তুলে ধরলাম আমরা। নিজের মূল্যবান সময় আমাদের দেওয়ার জন্য দেবজিত দা কে অনেক ধন্যবাদ আমাদের তরফ থেকে।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap