কোরোনা ভাইরাসের গ্রাসে ভারতীয় ফুটবল। ইস্টবেঙ্গল এর ভবিষৎ কোনদিকে এগোচ্ছে?

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 2:41 PM 1st April 2020 .

প্রথমেই বলে রাখি আমরা আমাদের ফ্যান্স ক্লাবের পক্ষ থেকে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে নিউজ করা থেকে বিরত থাকছি শেষ এক মাস ধরে তার কারণ হলো, বর্তমানে কোরোনা ভাইরাসের জন্য ভারতে লক ডাউন চলছে এবং তার প্রভাব পড়েছে খেলার দুনিয়াতেও। সব কিছুই হটাৎ এক জায়গায় স্থির হয়ে গেছে এবং কোনো রকমের কোনো উন্নতি নেই পরিস্থিতির যতদিন না এই মারণরোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাবে ভারত।

কিন্তু যদি বলা হয় সব থেকে সমস্যার মুখে পড়েছে কোন ক্লাব তাহলে অবশ্যই ইস্টবেঙ্গলের নামটা সবার আগে উচ্চারিত হবে। কারণ একটাই, তাদের চিরপ্রতিপক্ষ মোহনবাগান ক্লাব নিজেদের ৮০% শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে এটিকের কাছে তাদের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলেছে কাঁধ থেকে কিন্তু ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা কোনো রকমের মারজারে যেতে রাজি না হওয়ায়, তাদের ঘাড়ে এখন গুরুদায়িত্ব ইস্টবেঙ্গল কে আইএসএল এ খেলানোর সামনের মরশুমে। ইস্টবেঙ্গল আইএসএল না খেললে যে সদস্য সমর্থকরা বিরূপ প্রক্রিয়া দেখবেন সেটা জানেন কর্মকর্তারা।

ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন আইএসএল খেলার বিষয় যেটা প্রাথমিকভাবে ধাক্কা খেয়েছে বলাই চলে কোরোনার প্রকোপে। কোনোরকম উন্নতি হবেনা এই পরিস্থিতির যতদিন না দেশ জুড়ে লক ডাউন উঠবে তাই সদস্য সমর্থক থেকে কর্মকর্তারা, প্রতীক্ষা করা ছাড়া তাদের কাছে কোনো রাস্তা নেই কারণ ইস্টবেঙ্গল যে স্পন্সর বা ইনভেস্টরদের সাথে কথা এগিয়ে রেখেছে সেটা ফাইনাল হওয়ার জন্যও লক ডাউন ওঠা টা জরুরি।

তাই এই পরিস্তিতি তে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলের কোনো খবর নেই বললেই চলে বা খবর থাকলেও সব কিছুই প্রাথমিক পর্যায়। আমরা বরাবরই দেখে এসেছি যে সমর্থকদের কাছে যে মাধ্যম খবর পৌঁছে দেয় বরাবর, সমর্থকরা একটু উনিশ-বিষ হলেই তাদেরকেই পুরো পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে তার কারণেই আমরা সর্বসম্মতভাবে কোনো খবর করা থেকে বিরত থেকেছি।

তবে কিছু বিষয় জানিয়ে রাখতেই পারি আমরা সেটা হলো, কোয়েস ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে যাচ্ছে ৩১শে মে এবং ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা আইনি পরামর্শ নিয়ে এটা ঠিক করেছেন যে যতদিন না কোয়েস যাচ্ছে ততদিন কোনো রকম কোনো ঘোষণা করবেন না সামনের মরশুম নিয়ে আইনি জটিলতা এড়াতে। তাই ধরে নেওয়াই যায়, পয়লা জুনের আগে যা খবর হাওয়ায় ভাসবে হয় সেটা প্রাথমিক পর্যায়ের কোনো খবর বা গুজব।

এই বিষয় একটা ব্যাপার জানিয়ে রাখি, ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা পূর্বেই ২৭শে জুন পর্যন্ত সময় চেয়ে রেখেছিল FSDL এর থেকে আইএসএলে খেলার বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে এবং FSDL তাতে সম্মতি দিয়েছিল। এরপরে এই কোরোনার প্রকপে এই সীমা বাড়তে পারে তবে কমবে না তাই এখুনি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই যে এই মহামারীর প্রকোপে আমাদের আইএসএল খেলা বানচাল হয়ে গেল। এবার আসি কিছু দলগঠনের খবরে।

ইস্টবেঙ্গল এখনো কোন লীগ খেলবে সামনের মরশুমে সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলেও কর্মকতারা দলগঠন করছেন আইএসএল খেলবে এটা ধরে নিয়েই। এবং এর কারণে দুটো দল তৈরি করছেন ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা, একটা মেন টিম যেটা ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেললে তাতে অংশ নেবে আর একটা দল যেটা সারাবছর বাকি টুর্নামেন্টগুলো খেলবে। ইস্টবেঙ্গল কর্মকতারা এই শতবর্ষে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইএসএল/আই লীগ ছাড়াও আরো পাঁচটা অন্তত টুর্নামেন্ট খেলার এই মরশুমে এবং তার জন্যই রিজার্ভ টিমটা শক্তপোক্ত করায় মনোনিবেশ করেছেন এবং সেই দলগঠন কাজ চলছে, দেশের তরুণ এবং প্রতিভাবান ট্যালেন্টদের খুঁজে এনে তাদের নিয়ে। অভিজিৎ, মেহতাব এবং মিরসাদ থাকবেনা বলেই খবর সামনের মরশুমে।

এর বাইরেও ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলার বিষয় বহু তারকা প্লেয়ার কে অফার করেছে এবং খবর শোনা যাচ্ছে যে অনেকের সাথে ইতিমধ্যেই প্রি-কন্ট্রাক্ট করে ফেলেছে যেগুলো ঘোষণা হবে পয়লা জুনের পরে। প্রি-কন্ট্রাক্টের ক্লজে থাকছে যে ইস্টবেঙ্গল যদি আইএসএল না খেলে তাহলে এই প্রাথমিক চুক্তিগুলো বাতিল হয়ে যাবে। এই ক্লজ কে সামনে রেখেই ইস্টবেঙ্গল বহু প্লেয়ারের সাথে কথা চালাচ্ছেন (কিন্তু কারা রাজি হয়েছেন বা কার সাথে কতদূর কথা এগিয়েছে এই বিষয় আমাদের কাছে কোনো লিখিত প্রমান নেই তাই সে বিষয়ে আমরা কথা বলবো না) যেমন জেজে, ভিনিত, শেখ ফাইয়াজ, অরিজিৎ বাগুই, আজহারউদ্দিন মল্লিক, দেবজিত মজুমদার, শঙ্কর রয়, আশুতোষ মেহেতা, চুলভা, জবি, সালাম রঞ্জন, লালদানমাবাইয়া রালতে, বিকাশ জাইরু, ধনচন্দ, বলবান্ত, আদিল খান, বিশাল কেইথ, সার্থক গোলুই, বেঙ্গালুরুর দুজন প্লেয়ার (অনিবার্য কারণে নাম গোপন রাখা হলো), প্রমুখ। অন্তত পঞ্চাশ জন ভারতীয় প্লেয়ারের কাছে প্রি-কন্ট্রাক্ট অফার গেছে এখনো পর্যন্ত বলে খবর। বিদেশি নির্বাচনেও পিছিয়ে নেই, কাজ চলছে গোপনীয়তার সঙ্গে বলে খবর। এবার দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি পরিস্তিতি দাড়ায়। আপাতত এই পর্যন্তই আমরা খবর জানিয়ে রাখলাম। পয়লা জুনের আগে যদি কোনো সরকারি ঘোষণা না হয় তাহলে হয়তো আমাদের কাছ থেকে কোনো খবর আর পাবেন না ইস্টবেঙ্গলের সামনের মরসুমের বিষয়।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap