স্পোর্টিং রাইটস ফেরত এসেছে আগেই, দরকার শুধু এনওসির। লালহলুদে চলছে দর-কষাকষি।

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 3:51 PM 5th June 2020 .

লাল-হলুদের অন্দরমহলে সমীকরণ যেন রোজ বদলাচ্ছে। প্রত্যেকদিন বদলে যাচ্ছে ছবি। সাপ-লুডো খেলার মতো কখনো পরিস্থিতির দখল নিচ্ছে কোয়েস, আবার পরমুহূর্তেই তাদের কে পিছনে ফেলে ছড়ি ঘোড়াচ্ছে লাল-হলুদ কর্তারা। লাল-হলুদের চিত্রনাট্য যে এখন সিলভার স্ক্রিনকেও হার মানাচ্ছে বলে দেওয়াই যায়।

এর মধ্যেই সম্পূর্ণ ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিলো যখন জানা গেল ২০২০-২১ মরশুম থেকে স্পোর্টিং রাইটস আজ নয়, লাল-হলুদ কর্তাদের হাতে এসে গেছে তিন মাস আগেই। এখন যেটা প্রয়োজন সেটা শুধুই একটা এনওসি কোয়েসের পক্ষ থেকে যেটা পেলে বর্তমান লাল-হলুদ দল যে কোম্পানির দ্বারা পরিচালিত হয় সেটা বন্ধ করা যাবে। কর্তাদের তৈরি নতুন কোম্পানি দখল নিতে পারবে লাল-হলুদের উপরে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, আমাদের কাছে অনেকদিন আগে থেকেই খবর ছিল যে একুশে জানুয়ারি ২০২০ ইস্টবেঙ্গল কর্তারা ফুটবল রাইটস ফেরত পেয়েছেন কিন্তু সেই খবরের কোনো স্পষ্ট ভিত্তি ছিলোনা আমাদের কাছে বা উপযুক্ত প্রমান ছিলোনা, শুধুই একটা সূত্রে শোনা খবর ছিল সেটা তাই আমরা এতদিন কাউকে সেটা জানাইনি বা বলা ভালো নিজেরাও সন্দেহে ছিলাম খবরের সত্যতা নিয়ে। তবে বর্তমানে এই বিষয় আমরা উপযুক্ত প্রমান পেয়েছি বলেই নির্দ্বিধায় খবরটা করতে পারলাম।

এবং এখানেই আসল গল্পটা। কোয়েসের কাছ থেকে ক্রিকেট টিম এবং আরো আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ মোট পাওনা বাকি ক্লাবের তিন কোটি টাকা মতো। সাথে এখনো কিছু প্লেয়ারের সাথে চুক্তি বাতিল করতে পারেননি কোয়েস কর্তারা, যার সমাধান না করে গেলে কোয়েস, ভুগতে হবে লাল-হলুদ কর্তাদের ভবিষ্যতে।

কোয়েস এখন চাইছে এই টাকাটার দায়ে ভার ঝেড়ে ফেলতে নিজেদের কাঁধ থেকে। তবে লাল-হলুদ কর্তারা নিজেদের প্রাপ্য টাকা ছাড়তে নারাজ। তাই নিয়েই চলছে মিটিং, চিঠি চালাচালি, দর-কষাকষি। কোয়েস কর্তাদের এনওসি দিতে সমস্যা নেই যদি এই টাকার দায়ে-ভার মুক্ত করে দেওয়া হয় তাদের। লাল-হলুদ কর্তাদের যুক্তি প্রাপ্য টাকা থেকে কেন বঞ্চিত হবেন তারা? তিন কোটি টাকা নেহাত কম নয়, কোয়েস টাকাটা না দিলে কিভাবে পূরণ হবে সেই ঘাটতি প্রশ্ন কর্তাদের। এবার দেখার এই দর-কষাকষির খেলা কতদিন চলে এবং কবে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ফয়সালায় আসতে পারে। তবে যত তাড়াতাড়ি এই জটের মীমাংসা হবে ততই ভালো লাল-হলুদ ক্লাবের জন্য। কোয়েস কতৃপক্ষ যতক্ষন না এই এনওসি দেবে লাল-হলুদ কর্তাদের ততদিন ইস্টবেঙ্গল এআইএফএফ স্বীকৃত কোনো খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারবেনা, তাই বিষয়টা ওই একই দাঁড়ালো।

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা তাড়াহুড়ো করলেও বা অপেক্ষা করতে আর না পারলেও লাল-হলুদের হাতে এখনো অঢেল সময় আছে সেটা আমরা আগেরদিনই জানিয়েছিলাম। সব কিছু গুছিয়ে নিতে তারা আগস্টের শেষ পর্যন্ত সময় পাচ্ছে ফেডারেশনের কাছ থেকে তাই লাল-হলুদ কর্তারা এই বাড়তি সময়টার সদ্ব্যবহার করে নিজেদের প্রাপ্য পাওনা উসুল করে নিতে বদ্ধপরিকর।

আরো একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় সেটা হলো গতকাল আমরা একটা প্রতিবেদন লিখেছিলাম ফুটবল রাইটস নিয়ে এবং পুরো ব্যাপারটায় কতদিন কতটা সময় লাগতে পারে সেই নিয়ে একটা আন্দাজ দিয়েছিলাম। আমরা দুঃখিত ওখানে ফুটবল রাইটস উল্লেখ করার জন্য, ওটা ফুটবল রাইটস এর জায়গায় এনওসি হবে। আসলে সংবাদমাধ্যমগুলো এত ফুটবল রাইটস নিয়ে চর্চা করেছে যে আমরাও ভেবে নিয়েছিলাম যে হয়তো পূর্বে পাওয়া খবরটা ভুল ছিল, ফুটবল রাইটসই হয়তো পাওয়া বাকি। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আজ আমরা সম্পূর্ণভাবে খবর নিয়ে, বিশ্লেষণ করে খবরটা করলাম। আগেরদিনের প্রতিবেদনের বাকি পুরো বিষয়টা একদমই সঠিক আছে এবং যে সময়টা লাগবে বলে আমরা জানিয়েছিলাম ওটার কোনো পরিবর্তন হচ্ছেনা কারণ ফুটবল রাইটস পেয়ে গেলেও টাকা-পয়সা নিয়ে ফয়সালা করে এনওসি পেতে এবং তারপরে ফেডারেশনের সাথে পরবর্তী আলোচনা সম্পূর্ণ করে নতুন ইনভেস্টর নাম ঘোষণা করতে উল্লেখিত সময় লেগে যাবে।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap