Fan Choice: ইস্ট বেঙ্গল এ খেলা সেরা বিদেশি XI!

Published by Sabyasachi C on

Last Updated 7:25 PM 30th April 2020 .

সুমন্ত সেনগুপ্ত, badgeb.com: লকডাউনে ঘরবন্দী। কবে সব কিছু স্বাভাবিক হবে তার প্রতীক্ষায়। সময় যে আর কাটতে চাইছে না। অখন্ড অবসরে বসে বসে ভাবছিলাম কত যে বিদেশি খেলোয়াড় খেলে গেছে আমাদের ক্লাবে তার ইয়ত্তা নেই। সেই ৪২ এ পাগসালে থেকে শুরু করে হালের ক্রেসপি,মার্কোস কোলাদো অব্দি। মাঝে কত কত জন। নূর মজিদ জামশেদ এমেকা চিমা ক্যামিনো ওমেলো মুসা জ্যাকসন ওপেকু ডগলাস ওকরো ইয়াকুবু এডমিলসন টোলগে পেন ওপারা চিডি রন্টি ডুডু ডং মেন্ডি এনরিকে জনি এবং আরো কত! গুনে শেষ করা যাবে না। ভাবলাম এবার এর মধ্যে থেকে একটা সেরা এগারো বাছলে কেমন হয়! আমি আমার পছন্দ অনুযায়ী একটা চেষ্টা করলাম। দেখুন তো আপনাদের পছন্দের সাথে মেলে কিনা।

যে কোন সেরা একাদশ বাছাই করার আগে তা কোন সিস্টেমে খেলবে সেটা ঠিক করা খুব জরুরী। আমার পছন্দের সিস্টেম ৪-৪-২। অর্থ্যাৎ চার জন ডিফেন্ডারের সামনে চার জন হাফ যাদের মধ্যে একজন সি ডি এম এবং অপরজন বক্স টু বক্স খেলবে এবং বাকি দুজন ফ্রি খেলবে। সামনে দুই স্ট্রাইকার। এবার দলের কোচ প্রয়োজন বুঝে ফর্মেশনে বদল আনবেন।

প্রথমেই গোলকিপার: আজ্যান্ডা। আর কোনো বিদেশি গোলকিপার ইস্টবেঙ্গলে খেলে নি বলে আজ্যান্ডাই অটোমেটিক চয়েস

রাইট ব্যাক: সুলে মুসা। কোনো ডিফেন্ডারও যে এদেশের ফুটবলে ম্যাচ উইনার হতে পারে তা মুসা কে না দেখলে জানা যেত না। রাইট ব্যাক ছাড়াও স্টপার, রাইট হাফ, সেন্ট্রাল মিডফিল্ড এমনকি স্ট্রাইকার পজিশনেও মুসা সমান স্বাচ্ছন্দ বোধ করত। তবু রাইট ব্যাকে মুসা মানেই একটা গা ছমছমে ব্যাপার। ডান প্রান্ত দিয়ে মুসার দৌড় যে কোনো ডিফেন্সর কাঁপুনি ধরাত। তার সাথে নিখুঁত ট্যাকলিং হেডিং, এন্টিসিপেশন ও টিমের জন্য জান লড়িয়ে দেওয়া মুসাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছিলো। আমার টিমের রাইট ব্যাক মুসাই।

স্টপার: দুজন স্টপারে আমার পছন্দ ওমেলো এবং জনি একোস্টা। ওমেলোর তুলনা ওমেলো নিজেই। ওমেলোর খেলায় একটা স্নিগ্ধতা ছিল যেটা সচারচর কোনো ডিফেন্ডারের মধ্যে দেখা যেত না। অনবদ্য অনুমান ক্ষমতা, নিখুঁত ট্যাকলিং ও শূন্যে দুর্ভেদ্য ওমেলো শুধুমাত্র ক্লাস বিচার করলে ভারতে খেলা সেরা দুই বিদেশি ডিফেন্ডারের মধ্যে একজন। আর অপরজন নিঃসন্দেহে জনি । জনি একোস্টা হল নির্ভরতার প্রতীক।তার সম্বন্ধে কিছু বলা মানে বাতুলতা। সদ্য বিশ্বকাপ খেলে ভারতে খেলতে আসা প্রথম বিশ্বকাপার জনির মত ইমপ্যাক্ট এতো কম সময়ে আর খুব কম বিদেশিই পেরেছে। তাই আমার পছন্দের দুই স্টপার ওমেলো এবং জনি ই।

স্টিভ পরিনডেভেলি – ২২

লেফট ব্যাক: এই আরেকটা জায়গা যেখানে খুব বেশি বিদেশী ইস্টবেঙ্গলে খেলে নি। যে দু একজন খেলেছে আমি তাদের মধ্যে প্রিনডেভেলি কে বেছে নিলাম। ৯১ সালে যে ৩ জন ইংলিশ ফুটবলারের ইস্টবেঙ্গলে আগমনে কলকাতা ময়দান উত্তাল হয় প্রিনডেভেলি তার মধ্যে একজন। আদপে স্টপারের খেলোয়াড় হলেও তৎকালীন ইস্টবেঙ্গল কোচ নঈম তাকে লেফট ব্যাক হিসাবেই ব্যবহার করেন এবং ঠান্ডা মাথার প্রিনডেভেলি কোচের আস্থার মর্যদা দেন। লেফট ব্যাকে প্রিনডেভেলিই খেলবে

মাঝমাঠ: প্রথমেই দুই স্টপারের সামনে একজন ডিফেন্সিভ ব্লকার। ডগলাসের চেয়ে ভালো এই কাজটা আর কেউ করবে বলে মনে হয় না। স্ন্যাচিং, ট্যাকলিং, হেডিং, ডিস্ট্রিবিউশন এবং সর্বোপরি গোটা মাঠ জুড়ে খেলা ডগলাস ভারতে খেলা সেরা বিদেশিদের মধ্যে অন্যতম। মাঠের যে কোনো জায়গায় তার টিমের যে কোনো লোক কম থাকলে ডগলাস সেই শূন্যস্থান পূর্ন করতো। এই জায়গায় অন্য কাউকে ভাবার অবকাশ নেই।

এমেকা – মোহনবাগান এর বিরূদ্ধে

ডগলাসের সামনেই বক্স টু বক্স হাফ হিসাবে আমার পছন্দ এমেকা। ইস্টবেঙ্গলে খেলা সবচেয়ে আন্ডাররেটেড বিদেশী হল এমেকা।অথচ ইস্টবেঙ্গলে খেলা একমাত্র বিদেশী যিনি বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক ফুটবলে নিজেই দেশী হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলের স্বার্থে তৎকালীন ইস্টবেঙ্গল কোচ শ্যাম থাপা এমেকা কে কখনোই নিজের পজিশনে খেলাতে পারেন নি এবং তার পরেও এমেকা অসাধারন ফুটবল উপহার দিয়েছেন। শুধু ৮৬ এর শিল্ড সেমিফাইনালে নাইজেরিয়ার চ্যাম্পিয়ন দল লেভেন্তাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে এমেকা নিজের পছন্দের পজিশনে খেলতে পান এবং একার হাতেই বক্স টু বক্স ফুটবল খেলে তুবড়ে দেন লেভেন্তাস কে। তাই এই পজিশনে এমেকাই খেলবেন।

বাকি দুজন হাফের ভূমিকা এই টীমে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই দুজনকে ফ্রি খেলতে হবে যারা বল বাড়ানোর সাথে গোল করতেও সমান পারদর্শী। মজিদ ও মাইক ওকরো ছাড়া আর কাউকে ভাবা যায় কি? মজিদের সম্বন্ধে যতই বলা হবে কমই বলা হবে।ভারতে খেলা সেরা বিদেশি তো বটেই হেসে খেলে ইউরোপীয় লিগেও খেলার ক্ষমতা রাখতো মজিদ। কখন কি করবে কেউ জানতো না। ১০ মিনিটের একটা স্পেলে বিপক্ষকে শেষ করে দিতে পারতো। মজিদের তুলনা মজিদ নিজেই।

আর মাইক ওকরো ছিল এমন একজন খেলোয়ার যে নিজের দিনে যে কোনো ডিফেন্সকে নিয়ে ছেলেখেলা করতে পারতো। ২০০৩-০৪ এর মরশুমে জাতীয় লীগের শেষ ৯ টি ম্যাচ তৎকালীন ইস্টবেঙ্গল কোচ সুভাষ ভৌমিক ওকরোকে স্ট্রাইকারের পিছনে ফ্রি পজিশনে খেলিয়ে বিপক্ষকে তছনছ করে দেন। এমনকি সেই সময়কার ওকরোর সাথে তুলনা শুরু হয় বাদশা মজিদেরও। আমার পছন্দের টীমে ওকরো ওই একই জায়গায় খেলবে।

চিমা – ৯

স্ট্রাইকার: দুজন স্ট্রাইকার হিসাবে আমি রাখছি চিমা আর ইয়াকুবুকে। শুধুমাত্র স্ট্রাইকিং ক্ষমতা বিচার করলে চিমা ভারতে খেলা সেরা বিদেশি স্ট্রাইকার। বুলডোজিং ক্ষমতা দুপায়ে গোলার মত যে কোনো জায়গা থেকে শটে গোল করার ক্ষমতা চিমাকে সবার থেকে আলাদা করেছে। আর একজন স্ট্রাইকার হিসাবে আমি রাখলাম ইয়াকুবুকে। জানি অনেকেই জুনিয়রের নাম বলবেন তবুও আমার পছন্দ ইয়াকুবু। একার হাতে দলকে টানার ক্ষমতা ইয়াকুবুর অনেক বেশি এবং তর্কাতীত ভাবে মজিদের পরে সেরা বিদেশি। পায়ের চেটো দিয়ে বল আড়াল করে ড্রিবল করার ক্ষমতার অধিকারি ইয়াকুবুর গোল স্কোরিং দক্ষতাও অসাধারণ। এ ছাড়া ইয়াকুবুর লিডিং দক্ষতাও অসাধারন। অতএব আদ্যন্ত টিম ম্যান ইয়াকুবুই আমার পছন্দ।

পুরো টিমটা তাহলে এরকম দাঁড়ালো।

আজ্যান্ডা,মুসা,ওমেলো,জনি,প্রিনডেভেলি, ডগলাস,এমেকা,মজিদ,ওকরো,চিমা ও ইয়াকুবু।

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ও সাবধানে থাকুন এবং পারলে দুজন অসহায় কে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করুন।একদিন ঝড় থেমে যাবে এবং উঠবে এক নতুন সূর্য।

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap