সমর্থকদের কতটা নির্ভরতা দিতে পারবে লাল-হলুদের তরুণ গোলরক্ষকরা? রইলো বিবরণ।

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 11:27 PM 27th May 2020 .

ইস্টবেঙ্গল সামনের মরশুমে আই লিগে খেলবে না আইএসএলে সেটা এখনো ঠিক হয়নি তবে লাল-হলুদ ইতিমধ্যেই সই করিয়ে নিয়েছে তিন তরুণ গোলরক্ষক কে, যাদের বয়সটা কম বলেও তারা লাল-হলুদের তিনকাঠির নীচে নির্ভরতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চারদিকে খবর, ইস্টবেঙ্গল চতুর্থ গোলরক্ষকের খোঁজে এবং আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে দেবজিত মজুমদার এবং রেহেনেসের সাথে, তবে আমাদের কাছে থাকা খবর অনুযায়ী আর কোনো গোলরক্ষক কে আপাতত নেওয়া হবেনা। তাই আপাতত তিন চুক্তিবদ্ধ গোলরক্ষককে নিয়ে একটু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক।

শঙ্কর রায় (আমাদের বিচারে প্রথম পছন্দ) : পঁচিশ বছর বয়সী এই গোলকিপার বর্তমানে আই লীগের বিচারে দেশের সেরা গোলকিপার। গত মরশুমে মোহনবাগান কে আই লীগ জেতানোর পিছনে অন্যতম প্রধান কান্ডারি। মোহনবাগান জার্সি গায়ে দেবজিত মজুমদার প্রথম গোলকিপার হিসাবে শুরু করলেও দ্রুতই তার পারফরম্যান্সের অবনিত হয় এবং শঙ্কর হয়ে ওঠে মোহনবাগানের প্রধান গোলকিপার। বাকিটা ইতিহাস, শংকর যেন হয়ে ওঠে মোহনবাগানের দুর্গের অপরাজেয় প্রহরী। অন্তত পরিসংখ্যান তো তাই বলছে কারণ তিনি মোহনবাগানের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলে, মাত্র ৯ গোল খেয়েছেন এবং যেটা সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় সেটা হলো ৭ ম্যাচে ক্লিন সিট রেখেছেন। অর্থাৎ ৫০% ম্যাচে তিনি ক্লিন সিট রেখেছেন যেটা যেকোনো গোলকিপারের জন্য প্রচন্ড প্রশংসনীয় ব্যাপার। এই জায়গাতেই লাল-হলুদ কর্তাদের প্রশংসা প্রাপ্য যে তারা দেরি না করে সঠিক সময় শঙ্কর রায়ের মতো এক প্রতিশ্রুতিবান গোলকিপারকে সই করিয়েছেন লাল-হলদে। মোহনবাগানের আগে তিনি খেলতেন মহামেডানে। কয়েকবছর আগে তিনি সন্তোষ ট্রফিতে বাংলার হয়ে দুর্দান্ত ফল করে আলোড়ন ফেলে দেন এবং তখন থেকেই শঙ্কর রায় হয়ে ওঠে ময়দানের পরিচিত মুখ।

বিগত কয়েকবছরে তার এই উত্থান এবং অভিজ্ঞতার জন্যই তাকে লাল-হলুদের প্রধান গোলকিপার মনে করা হচ্ছে। লাল-হলুদ ছাড়াও দুই আইএসএল দলের অফার ছিল তার কাছে কিন্তু তিনি যে বেঞ্চে বসে সময় কাটাতে ইচ্ছুক নন। এবং সে কথা তিনি অকপটে লাল-হলুদ কর্তাদের জানাতেই, তিনি কর্তাদের থেকে আশ্বাস পান তাকে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ টাইম দেওয়া হবে, তারপরে আর দেরি করেননি তিনি। তার বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী লাল-হলুদের চুক্তিপত্রে সই করে দেন তিনি।

রফিক আলী সর্দার (আমাদের বিচারে দ্বিতীয় পছন্দ) : দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসে ২২ বছর বয়সী এই গোলকিপারের উত্থান অনেকটা রূপকথার মতো। ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান দুই একাডেমিতেই খেলা এই প্লেয়ার চলে যান টাটা ফুটবল একাডেমিতে। সেখানে তিনি অনুর্ধ-১৮ দলের সদস্য ছিলেন এবং নজরকাড়া পারফরম্যান্সের জন্য জামশেদপুরের আইএসএল দলে সুযোগ পান। রিজার্ভ দল থেকে মেন টিমে সুযোগ পেয়ে যান দ্রুতই। তিন বছর ধরে তিনি জামশেদপুরে ছিলেন। এবছর ইস্টবেঙ্গলের অফার পেয়ে আর পিছনে ফিরে তাকান নি অনুর্ধ-১৯ জাতীয় দলে ডাক পাওয়া এই গোলকিপার। শেষ মরশুম তিনি বিশেষ সুযোগ পাননি জামশেদপুরে এবং পেলেও নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন তিনি, মোট তিনটে ম্যাচ পুরো খেলেন তিনি। ২৭০ মিনিট খেলে ৯ গোল খান তিনি, তবে গোল খাওয়ার দায়ে সবসময় হয়তো শুধু গোলকিপারের থাকেনা, সেই দলের ডিফেন্সের দোষও সমান থাকে। ব্যর্থতার কারণ যাই হোক, তার প্রতিভা নজর কাড়ে লাল-হলুদ থিংক ট্যাংকের এবং তাকে লাল-হলুদে সই করানো হয়। তার অন্যতম প্লাস পয়েন্ট হলো তার উচ্চতা এবং লাল-হলুদ সমর্থকরা তার সাথে গুরপ্রীত সিং সান্ধুর মিল খুঁজতে শুরু করেছেন। সমর্থকরা মনে করছেন তাকে সময় এবং পর্যাপ্ত সুযোগ দিলে তিনিও ভারতের ভবিষ্যতের তারকা হয়ে উঠতে পারেন।

তিন গোলকিপারের মধ্যেই কনিষ্ঠতম এই গোলরক্ষক নিজেও লাল-হলুদে সাফল্য পেতে আশাবাদী। তিনি যে শুধুই নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন সেটা অকপটে স্বীকারও করেছেন।

মিরসাদ মিচু (আমাদের বিচারে তৃতীয় পছন্দ) : আমাদের তৃতীয় পছন্দ হলেও বর্তমান গোলকিপারদের মধ্যে থেকে সিনিয়র তিনিই লাল-হলুদে। শেষ তিন বছর ধরে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপানো এই ছাব্বিশ বছর বয়সী গোলকিপার কখনোই লাল-হলুদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠতে পারেননি কিন্তু যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। শেষ মরশুমে তিনি দলের দ্বিতীয় গোলকিপার ছিলেন। ডুরান্ডে লাল-হলুদের হয়ে গোটা টুর্নামেন্টে দারুন খেলেন তিনি। তবে কোচ আলেজান্দ্র মেনেন্ডেজ গার্সিয়ার আমলে তেমন সুযোগ পাননি তিনি আইলিগে, বেঙ্গালুরু থেকে আসা গোলকিপার রালতে ক্রমাগত খারাপ ফল করে গেলেও সুযোগ পেতে থাকেন তিনি।

আলেজান্দ্রো কোচিং থেকে সরে যাওয়ার পরে সুযোগ পেতে শুরু করেন তিনি। আই-লীগের ৭ ম্যাচ খেলে পাঁচ গোল খান তিনি, দুটো ম্যাচ ক্লিন সিট রাখতে সক্ষম হন তিনি। লাল-হলুদ বাহিনী শুধু ওই দুটো ম্যাচেই ক্লিন সিট রাখতে সক্ষম হয় তার হাত ধরে পুরো আই লিগে। তবে এবছরও তার প্রথম গোলরক্ষক হওয়ার সম্ভাবনা কম, দ্বিতীয়/তৃতীয় গোলকিপারের ভূমিকা পালন করবেন হয়তো তিনি।

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা উদগ্রীব হলেও গোলকিপার পজিশন নিয়ে, কর্মকর্তাদের মতোই আমরাও আশাবাদী যে এই তিন গোলকিপার দিয়েই সামনের মরশুমে ভালো ফল করতে সক্ষম হবে লাল-হলুদ বাহিনী কারণ তরুণ এই তিন গোলকিপারের মধ্যেই সর্বভারতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রমান করার যথেষ্ট তাগিদ আছে।

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap