নতুন গল্প যেন পিছু ছাড়ছে না ইস্টবেঙ্গলের… ভুগছে সাধারণ সমর্থকরা! পড়ুন…

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 2:43 PM 25th April 2020 .

শুরুতেই বলি, এই বিষয়টা নিয়ে দেরিতে লিখলাম কারণ গুরুত্ব দিনি প্রথমে, কিন্তু অনেকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করায় এই বিষয়টা নিয়ে লিখলাম। প্রত্যেকদিন নতুন নতুন গল্প বাজারে আমদানি করে টিআরপি বাড়ানো এখন সহজাত ব্যাপার হয়ে গেছে সব খবরের কাগজের থেকে শুরু করে অনলাইন পোর্টালের। তারা এইটুকু বুঝে গেছে যে যা লিখবে, আমার মনে যা আসবে তাই লিখবো, এবং সেটাই বিশ্বাস করবে সমর্থকরা কারণ তাদের কাছে খবর পাওয়ার এর পরিবর্তে কোনো রাস্তা নেই। এই মহামারীর সময় বেশিরভাগ মানুষেরই কাজকর্ম বন্ধ, সারাদিন ঘরে বসে প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ মানুষ সাথে সারাদিন কিছু পাচ্ছেন না করার মতো। ফলে যেটা হচ্ছে সারাদিন কাজ না থাকার ফলে দুশ্চিন্তা মাথায় ঘুরছে, সাথে সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই সমর্থকরা চাইলেও এড়িয়ে যেতে পারছেনা এই আলোচনা যে আমরা আইএসএল খেলবো কি খেলবেনা।

আমি এই লেখাটা লিখছি এটা ক্লিয়ার করতে নয় যে আমরা আইএসএল খেলবো কি খেলবেনা। আমি এটা লিখছি সকল ইস্টবেঙ্গল সমর্থককে বাস্তবটা বোঝাতে এবং পুরোটা পড়লে এবং বুঝলে তারা হয়তো মানসিকভাবে অশান্ত থাকা থেকে বিরত থাকতে পারবে। আপনাদের এই মানসিক অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে সদ্য গজিয়ে ওঠা কিছু ওয়েব পোর্টাল, কিছু ফেসবুক পেজ এবং কয়েকটা খবরের কাগজ যাদের কাছে এখন কাগজের পাতা ভরানোই দুষ্কর হয়ে উঠছে খেলাধূলা না থাকার ফলে। এবার ভাবুন যে খবরগুলো আপনি বিশ্বাস করছেন এবং যেখানে উল্লেখ থাকছে ‘বিশিষ্ট সূত্রে খবর’, ‘আমাদের কাছে থাকা খবর অনুযায়ী’ ইত্যাদি ধরণের ধাঁধালো কথাবার্তা সেগুলোকে আপনি বিশ্বাস করে কি মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন না? যে লিখছেন তিনি যদি ইস্টবেঙ্গল অন্তপ্রাণ হন তাহলে তিনি আইএসএল খেলার সম্ভাবনা প্রবল লিখছেন, আর যদি ইস্টবেঙ্গলের বিরোধী দলের সমর্থক হন তাহলে সম্ভাবনা ক্ষীণ লিখছেন এবং আপনি সেগুলো বিশ্বাস করছেন রুট বিবেচনা না করেই। এটাই স্বাভাবিক হয়তো যে আপনাদের অতটা সময় নেই এত বিবেচনা করার, কিন্তু করতে হবে বিবেচনা আর নাহলে ভাবা বন্ধ করে দিতে হবে কারণ বিবেচনা না করে বর্তমানে বিশ্বাস করলে সেটা আপনার শরীরের জন্যও ক্ষতিকারক।

এবার মূল বিষয় আসি, ঠিক তিনদিন আগে এফএসডিএলের একটা মিটিং ছিল আইএসএল নিয়ে। তাদের মিটিং এর প্রধান কারণ কোনোভাবেই ইস্টবেঙ্গলের অন্তর্ভুক্তি ছিলোনা। প্রথমে বাজারে খবর চাউর হলো মিটিংটা ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলবে কিনা সেটা নিয়ে, সারাদিন ধরে নাকি সমর্থকরা অপেক্ষা করলো কি হয়, কি হয় জানার জন্য। তারপরে মিটিং শেষ হলো, যেটা হওয়ার সেটাই হলো, ইস্টবেঙ্গল সংক্রান্ত কোনো খবর বেরোলো না। কিন্তু যারা শুরুতে খবরটা ছড়িয়েছিল তাদের তো কিছু আপডেট দিতে হবে, দুটো ওয়েবসাইট সুন্দর করে সাজিয়ে ছেড়ে দিলো ইস্টবেঙ্গল নাকি বিড পেপার তুলেছে ওইদিন। ব্যাস, সমর্থকদের আর কে পায়, একদিনের আনন্দ করার মশলা মজুত। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের যে যে কর্তার সাথেই আমাদের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বিড পেপারের সত্যতা নিয়ে সেই খবরটা উড়িয়ে দিয়ে বলেছে ভিত্তিহীন খবর, বিড পেপার ওরকম সাধারণ বিষয় নয় যে ঘোষণা ছাড়াই হটাৎ করে ছেড়ে দেওয়া হবে। আজকে আবার পড়লাম এক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘ইস্টবেঙ্গল কর্তারা বলেছেন বিড পেপার তুলেছি আমরা’, ওনাকে অনুরোধ করলাম এটা প্রমান করার জন্য যে কোন ইস্টবেঙ্গল কর্তা এটা বলেছেন তাকে। এরপরে আসি অন্য একটা প্রসঙ্গে, যারা মন থেকে চায় ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলুক তারা তো বিড পেপারের গল্প ছড়িয়ে দিয়েছে নিজেদের ইচ্ছা মত। কিন্তু যারা চায়না খেলুক তারা কি করবে? তারা চুপ থাকবে কেন? তারাও একদিন বাদে বাজারে খবর আনলো যে ‘ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ’। ব্যাস সমর্থকরা আবারও ভেঙে পড়লো। আপনারা কি বুঝতে পারছেন আপনাদের মন নিয়ে খেলা হচ্ছে? আইএসএল কমিটির মিটিং কোনোভাবেই ইস্টবেঙ্গল নিয়ে আলোচনা করার জন্য ছিলোনা (টুকটাক দু-এক কথা হতেই পারে কিন্তু এটা এজেন্ডা ছিলোনা), মিটিংয়ের মূল বিষয় ছিল সামনের বছরে আইএসএল করতে পারার সম্ভাবনা, দিনক্ষণ নির্ধারণ, এবং বিদেশি কমানোর প্রস্তাব। অনেকের খবর শুনলেন এবার আমি বলি, শেষ তিনদিনে ইস্টবেঙ্গল সংক্রান্ত কিছুই ঘটেনি। ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল খেলার সম্ভাবনা যতটা ছিল তিনদিন পূর্বে, এখনো ততটাই আছে। আর ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলার সম্ভাবনা যতটা ক্ষীণ ছিল তিনদিন আগে এখনো ততটাই আছে। তাই শুধু শুধু নিজেদের ব্যস্ত করা বন্ধ করুন। আগামীদিনেও এরকম আরো অনেক গল্প আসবে, সেগুলোও এড়িয়ে চলুন। সত্যিই কোন উল্লেখযোগ্য খবর থাকলে আমরা আপনাদের জানাবো কথা দিলাম কারণ আমরাও আপনাদের মতোই সাধারণ সমর্থক, আমাদের আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে নেই কোনো তাই মনগড়া খবর করার দরকার পড়েনা। এবার পুরো বিষয়টা আরো পরিষ্কার করে দি আপনাদের কাছে।

ধরুন এফএসডিএল-আইএসএল কমিটি হলো A যাদের নির্দিষ্ট কিছু চাহিদা আছে যেগুলো ইস্টবেঙ্গল পূরণ করতে পারলেই ইস্টবেঙ্গল কে আইএসএল খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে আজ না, বহুদিন আগেই জানিয়েছে ফেডারেশন। এবার ধরণ ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা হলো B, যারা জানে কি কি চাহিদা তাদের পূরণ করতে হবে এবং জেনে শুনেই তারপরেও তারা বুক ফুলিয়ে ক্যামেরার সামনে বারবার বলে চলেছেন যে তারা দলকে আইএসএল খেলাবেন। এবার কোয়েস কর্প হলো ধরুন C, যারা ইস্টবেঙ্গলে থাকবে ৩১শে মে পর্যন্ত এবং ওইদিন পর্যন্ত ফুটবল টিমের সব দায়িত্ব তাদের হাতেই থাকবে সরকারিভাবে। এবার বিষয় হলো, C যতদিন থাকবে সরকারিভাবে ততদিন B কিছুতেই কোনো রকমের সরকারি ঘোষণা করতে পারবেনা ইস্টবেঙ্গল দলের ভবিষৎ নিয়ে C কে টপকে, করলেই আইনি জটিলতা তৈরি হবে। এবং A, B, C র বাইরে একটা D ও আছে যেটা হলো আমরা বাকি সবাই, সবাই মানে সব্বাই (আমি, আপনি, মিডিয়া, সমর্থক, অন্য দলগুলো ইত্যাদি)। এবারে ভাবুন B এর কতটা প্রস্তুতি সেটা কোনোভাবেই D জানেনা, তাহলে তারা কিভাবে নির্ধারণ করছে যে ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল খেলার সম্ভাবনা প্রবল না ক্ষীণ? সম্ভব? উত্তর একটাই, না। এবার এই পুরো ব্যাপারে সব থেকে আকর্ষণীয় দুটো বিষয় হলো, A তাদের দেওয়া চাহিদা থেকে সড়বেনা এবং চাহিদা পূর্ণ হলেই ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলবে। এবং B এর প্রস্তুতি কতটা সেটা A, C, D কেউই জানেনা। হ্যাঁ আবারও বলছি, ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি কতটা সেটা শুধু তারাই জানে, আমাদের কারুর পক্ষে জানা সম্ভব না। এবং খবর জানতে পারছিনা বলে যে কিছু হচ্ছেনা আসলেই, এমনটাও কিন্তু নয় কারণ মাথায় রাখবেন কোয়েস যখন দলের দায়িত্বে এলো, ঘোষণার একদিন আগেও কিন্তু কেউ চেষ্টা করেও কোম্পানির নাম বের করতে পারেনি। এবার সারা দেশের মিডিয়া এই রেসে দৌড়াচ্ছে যে ঠিক খবরটা কারা আগে ব্রেক করবে, এবং এই ব্রেক করার স্বার্থে তারা রোজ একটা করে নতুন গল্প বানিয়ে বাজারে ছাড়ছে চাপ তৈরি করার জন্য।

আমি কি কি ঠিক বলতে চাইলাম সেটা যদি বুঝতে পারেন তাহলে আশা করি এটাও বুঝে গেছেন যে আমার বা আপনার এখন করার মতো কাজ একটাই, জুন মাসের জন্য অপেক্ষা করা কারণ তার আগে কেউ কোনো খবর বের করতে পারবেনা, চারিদিকে যা শুনছেন পুরোটাই গুজব। আমার বোঝানোর মতে B এর প্রস্তুতি B ছাড়া কেউই জানেনা, তাই B যখন বারবার বলছে তারা আইএসএলে দলকে খেলাবেই তখন ধৈর্য ধরা ছাড়া গতি নেই। শেষ মুহূর্তে যদি আমরা দেখি ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেললো না তবে কর্মকর্তাদের (B) জবাবদিহি দিতেই হবে একটা পাবলিক ক্লাবে, এটাই স্বাভাবিক, এবং আমার মনে হয় সেই বিষয় তারাও সতর্ক।

এই প্রতিবেদন যদি একটুও আপনার বোঝার উপকারে আসে তবে মাথায় রাখুন আরও একমাস বাকি আছে, এরকম আরো পাঁচ-দশটা খবর আসবে, সেগুলোতে বিচলিত না হয়ে জুন মাসের অপেক্ষায় থাকুন কারণ তার আগে কিছুই সরকারিভাবে ঘোষণা হবেনা কোনো পক্ষ থেকেই।

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap