প্লেয়ার ছাড়তে সমস্যা নেই, শুধু নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্রের সমস্যা মিটুক। অপেক্ষায় দুই পক্ষই।

Published by BADGEB Admin on

Last Updated 11:22 AM 2nd June 2020 .

আমরাই জানিয়েছিলাম যে রিকি সাবঙ এবং হারমানপ্রিত লাল হলুদের জার্সি গায়ে চাপাবেন। ট্রান্সফারের বিষয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে পাঠায় ফেডারেশন। তারপরেই ঘটে বিপত্তি। ফেডারেশনে এখনো কোয়েস ইস্টবেঙ্গল নামেই নথিভুক্ত আছে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল রাইটস। আর এরপরেই নড়েচড়ে বসে ফেডারেশন, তারা বুঝতে পারে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পাঠানো কাগজপত্রে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নামের শুধু উল্লেখ আছে, যেটাকে নতুন কোম্পানি হিসাবে ধরে নিয়ে এগোতে চাইছে লাল-হলুদ কর্তারা। তখনই ফেডারেশনের দায়িত্বে থাকা কতৃপক্ষ চিঠি দেয় লাল-হলুদকে যে এই কাগজপত্র তখনই ভ্যালিড বলে তারা মানবে যখন কোয়েসের এনওসি পাঠাবে লাল-হলুদ কর্তারা। তারপরেই শুরু হয় মেল চালাচালি, বাইরে চলে আসে নানান রকমের খবর।

পরিষ্কার করে বলা যাক পুরো বিষয়টা। ইস্টবেঙ্গল কর্তারাও জানতো যে জুনের আগে কোনো এনওসি তারা কোয়েস থেকে দাবি করতে পারবেনা, আর তাই দলগঠনে নেমে তারা টার্গেট করে দেশের ফ্রি থাকা প্লেয়ারদের, যাদের সাথে কোনো ক্লাবের চুক্তি নেই বা চুক্তি ফুরিয়ে আসছে। কারণ, চুক্তিবদ্ধ কোনো প্লেয়ারকে যদি ট্রান্সফার ফি দিয়ে নিজের ক্লাবে আনতে হয় সে ক্ষেত্রে সেই দলের বর্তমান ম্যাক্সিমাম শেয়ার হোল্ডারের পক্ষ থেকে চিঠি বা এনওসি একপ্রকার বাধ্যতামূলক।

ইস্টবেঙ্গল কর্তারা সেটা মাথায় রেখেই ফ্রি প্লেয়ারদের নিয়ে দলগঠন করতে থাকে, সেই প্লেয়ারদের এবং তাদের এজেন্টদের বোঝানো হয় যে জুন মাসেই দল ফুটবল রাইটস ফেরত পেয়ে যাবে, তারপরে তাদের সাথে সরকারিভাবে চুক্তিপত্রে সই করানো হবে। তার পূর্বে সবাইকে কিছুটা অগ্রিম দিয়ে প্রি-কন্ট্রাক্টে সই করানো হয়। ইস্টবেঙ্গল প্রথম সমস্যার সম্মুখীন হয় যখন তারা কোনো ক্লাবের সাথে বা সংস্থার সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকা প্লেয়ারদের দিকে হাত বাড়ায়, সেটা হলো হারমানপ্রিত এবং রিকি।

যেহেতু এই দুই প্লেয়ার ফেডারেশনের সাথে চুক্তিবদ্ধ তাই তাদের ইচ্ছা থাকলেও তারা ফেডারেশনের কোনো পারমিশন ছাড়া কোনো প্রি-কন্ট্রাক্টে সই করতে পারেনা। ইস্টবেঙ্গল দারস্থ হয় ফেডারেশনের। তখন ফেডারেশন থেকে জানানো হয় যে, তারা অন্তত কোনো রকম প্রি-কন্ট্রাক্টে বিশ্বাসী নয় বা এই বিষয় সামিল হতে চায়না। ট্রান্সফারের ইচ্ছা থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয় লাল-হলুদ কে।

লাল-হলুদ কর্তাদের সাথে কথাবার্তা শুরু হয় ফেডারেশনের দায়িত্বে থাকা কর্তাদের। ফেডারেশন জানায় যেহেতু বর্তমানে ফুটবল রাইটস ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত কোয়েসের কাছেই ফুটবল রাইটস আছে তাই লাল-হলুদের কর্তাদের দেওয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে ফেডারেশনের চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারকে সই করালে সেটা বেআইনি হবে, বিপাকে পড়তে পারে ফেডারেশন। সাথে, তারা দুই তরুণ উঠতি প্লেয়ারকেও কোনো রকম সমস্যার সম্মুখীন করাতে চান না এই চুক্তির ফলে। লাল-হলুদ কর্তারা পরিস্থিতি অনুভব করে জানান যে তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফুটবল রাইটস ফেরত পেয়ে, এনওসি সমেত এই দুই প্লেয়ারের জন্য আবার কাগজপত্র পাঠাবে ফেডারেশনকে যত দ্রুত সম্ভব। ফেডারেশন তাতে রাজি হয় এবং অপেক্ষা করা হবে বলেও জানায়। চারদিকে যে লাল-হলুদের ভবিষৎ জানতে চেয়ে চিঠির খবর বেরিয়েছে, সেটা মূলত এই বিষয়, এবং সেটা চিঠির পাল্টা চিঠি হিসাবে এসেছে। ভবিষৎ জানতে চেয়েছে এই প্লেয়ারগুলোর ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার স্বার্থে।

লাল-হলুদ কর্তারা মনে করছেন, কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই নিয়মানুযায়ী কাগজপত্রের কাজ শেষ হবে (চুক্তি শেষ হওয়ার পরে একটা নূন্যতম সময় লাগে কিছু প্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রে) দ্রুত এবং ফুটবল রাইটস ফেরত পেয়ে যাবে ক্লাব আগামী সাত দিনের মধ্যে। তারপরে আর ফেডারেশন থেকে বা অন্য ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকা কোনো প্লেয়ারকে সই করাতে বা লোনে নিতে সমস্যা থাকবেনা।


0 Comments

Leave a Reply

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap