ম্যাজিক না ফুটবলবোধ? ব্যাডজেবে কলম ধরলেন পৃথ্বীজিত দত্ত

Published by Aritra Das on

সম্প্রতি “All Or Nothing” নামক একটি ওয়েব সিরিজ খুব জনপ্রিয় হয়েছে । এটি বিখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি এর উপরে বানানো একটি তথ্যচিত্র । সেখানে দেখানো হয়েছে কিভাবে পেপ গুয়ার্দিওলা টিমটাকে বদলে দিয়েছেন । ইংল্যান্ডের পাওয়ার ফুটবল সাথে স্প্যানিশ ওয়ান টাচ । তবে একদিনে এটি সম্ভব হয়নি । তার লেগেছিলো গোটা একটি বছর ।

এবার একটু পিছনে তাকান । খুব বেশি দিন না । সেপ্টেম্বর, ২০১৮ । সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে যখন “ময়দানে পোড় খাওয়া” কোচ দলের “নিউক্লিয়াস” তৈরী করে মাঠে প্রেসেন্ট করছেন, ইস্টবেঙ্গল-আরিয়ান গ্যালারি হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলো । কিছুদিন আগেই কোয়েসের হাত ধরে কলকাতা ময়দান পেয়েছে প্রথম “ইনভেস্টর” । তার ওপর “টাটকা” বিশ্বকাপার সই করিয়ে স্বপ্নের বেলুনটা বেশ ফুলে উঠেছে । সাথে রয়েছে পকেট বোঝাই ট্রফি নিয়ে টিডির গরম গরম মিডিয়া বাইট । কলকাতা লিগে মহামেডান, পিয়ারলেস হারিয়ে দিলো বিশ্বকাপারের দলকে । ব্যাস, পেলে আটকানো কিংবদন্তি থেকে বিরিয়ানি খেয়ে খেলতে নামা লেজেন্ড তখন বিশ্বকাপার তকমা নিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতে ব্যস্ত । তখন তিনজোড়া চোখ কিন্তু ওই মেম্বার্স গ্যালারি থেকে হিসেবেটা বুঝে নিচ্ছিলো যে কতটা পরিশ্রম করতে হবে এই দলটাকে “এশিয়া সেরা” করতে হলে ।

এবার আর একটু এগিয়ে আসুন । ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ । ওপুকুর নিখুঁত প্লেসমেন্ট । পর পর তিনটে হার । এবার আর হলো না । আবার বেরিয়ে পড়লেন সেই বিখ্যাত মানুষরা । কাগজে কাগজে হেডলাইন । ক্ষেপে গেলো একদল সমর্থক । এত পয়সা খরচ, বিদেশে ট্রেনিং – কি লাভ হলো ? কিন্তু ওই তিনজোড়া চোখ তখন প্র্যাক্টিস শেষে ফ্ল্যাটে পৌঁছে নিজেদের কাজে ডুবে গেছে । কোথায় ভুল হচ্ছে, কার কি খামতি, ফিটনেস ঘাটতি কতটা – সব নোটবুকে তুলে নিচ্ছেন । পরদিন আবার নতুন করে শুরু । তারা জানেন এই প্লেয়ারগুলোর কোয়ালিটি । সেই মতো করে ঘুঁটি সাজানো চলছে । পাশে পেলেন কোয়েসের কর্তাদের আর গ্যালারিতে সমর্থন “Juntos hacia la gloria” ( Together Towards Glory) ।

না, আমি জাদুকর বলবো না । ওসব রূপকথায় শুনতে ভালো লাগে । আমি বলবো নিপুন কোচিংবোধ, ম্যান ম্যানেজমেন্ট, প্রপার ডায়েট । মালয়েশিয়া ক্যাম্প শুধু প্রি-সিজন ছিল না, ছিল প্লেয়ারদের বন্ডিং বাড়ানোর প্রথম ধাপ । বিশেষত সেই দিনগুলো যেদিন প্লেয়াররা বেরিয়ে পড়তেন ঘুরতে । চাক দে ইন্ডিয়া দেখেছেন নিশ্চয় । লাঞ্চ করতে বেরিয়ে সেই মারামারির দৃশ্য । সব প্লেয়াররা যখন ইউনিটি দেখালো তখন থেকে শুরু হলো আসল যাত্রা । এখানেও ঠিক তাই । তবে সিলভার স্ক্রিন নয়, বাস্তব । সাথে কিনে নিলেন কিছু ট্রেনিং সরঞ্জাম । এরপর দেশে ফিরে আরো একটি নিয়ম । হোম ম্যাচের আগে প্লেয়াররা একসাথে থাকবেন কোনো হোটেলে । উদ্দেশ্য একই । বন্ডিং কোন লেভেলে গেছে তা আমি আলাদা করে আর বলবো না । রেজাল্ট আর পারফর্মেন্স প্রমান হিসেবে যথেষ্ট ।

ডায়েট এখন বিশ্ব ফুটবলে অত্যন্ত কার্যকরী । নেইমারকেও বার্সেলোনাতে এসে ওজন বাড়াতে হয়েছিল । নোদারের ডায়েট চার্ট দেখে বিস্মিত নই খুশি হয়েছিলাম । সাথে তার ফিটনেস ট্রেনিং । আমার মনে পরে রুদ্র রায় কে নোদার মালয়েশিয়া তে ডেকে নিয়েছিল । একসাথে কাজ করতে । সেই ডায়েটে বদলে গেলেন কাশিম, ডিকা । এতদিন দেখতাম জিম সেশন । ওটাই ফিটনেস ট্রেনিং । সেই ফিটনেসের এমন বলিহারি যে ৭০ মিনিটে টিম দাঁড়িয়ে যায় । আর এখন ৭০ মিনিটে টিম খেলার স্পিড বাড়ায় । সামনের প্রি-সিজনের ট্রেনিং সূচিও নাকি তৈরী ভদ্রলোকের । কৌশিক সরকার, কিংশুক, বালি গগনদীপ, বিদ্যাসাগর, সালামরঞ্জন, ফানাই এঁরা হয়তো পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না । কিন্তু আমার দৃঢ় বিশ্বাস এদেরকেও তৈরী করছেন আলেহান্দ্রো । যেমনটা কাশিমের ক্ষেত্রে হয়েছিল । এখন আর আনফিট প্লেয়ার নামে মাঠে নামবে না, নামবে সেদিনই যেদিন সে নিজের ২০০% দিতে তৈরী হবে ।

আনন্দের দিনে সবাই পাশে দাঁড়াবে, প্রকৃত ভালোবাসার মানুষ খারাপ দিনেও পাশে থাকবে । তোমার সাথে আমরাও স্বপ্ন দেখি “এশিয়া সেরা” হব আলেহান্দ্রো । তার জন্য আমরা কোনো লবিবাজি, খুচরো বিতর্ক টিমের ধরে কাছে ঘেঁষতে দেব না । “মাঠে প্র্যাক্টিস ফিরিয়ে আনো” দাদারা আজ শীতঘুম দিচ্ছেন । সে দিন, আমাদের আপত্তি নেই । আপাততঃ কালো পর্দা ঢাকা প্র্যাক্টিস কেন, বাঙালি প্লেয়াররা কেন সুযোগ পাচ্ছে না, মিডিয়ার ব্যালান্স করে নিউস বানানো সোজা বাপি বাড়ি যা ঢঙে উড়ে গিয়েছে । কারণ আলেহান্ড্রোর মুখ কম চলে, মাথা বেশি চলে যে । ধন্যবাদ কোয়েস ম্যানেজমেন্ট এমন একজন মানুষের হাতে মশালটা তুলে দেওয়ার জন্য । সাথে কিছু আগাছা উপরে ফেলে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য । একসাথে লড়াইটাই তো এতদিন ছিল না । ❤️💛🔥

Categories: Latest News

2 Comments

Gautam Bala · 15th February 2019 at 11:03 AM

U r right

Subhojit Ghosh · 15th February 2019 at 4:00 PM

Every words in this article are true. Love East Bengal. I’m also dreaming together that with the help of Quess and Coach and team we will reach the highest level. Joy East Bengal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!