ডার্বি আসন্ন, কি হতে পারে খেলার ফলাফল? রইলো BADGEB এর রিপোর্ট

Published by Aritra Das on

লালহলুদের খুদে সমর্থক

বাঙালির গর্ব, বাঙালির অহংকার, ঘটি-বাঙালের ঐতিহ্যের লড়াই কলকাতা ডার্বি যাতে মুখোমুখি হয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব এবং মোহনবাগান ক্লাব। ইলিশ-চিংড়ির এই লড়াই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়, একদিনের জন্য মতপার্থক্য ও তর্কের ঝড় ওঠে বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোনের মধ্যে। বাঙালিরা মনে করে এই দৈরথই বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের ফুটবলের প্রতি টান, ভালোবাসা।

আবারও দোরগোড়ায় এসে হাজির সেই ডার্বি, সম্ভবত ফুটবল মরসুমের শেষ ডার্বি (যদি না সুপার কাপে ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান আবার মুখোমুখি হয়)। শেষ দু বছরে লালহলুদের রেকর্ড খুব ভালো না হলেও, এই বছরটা আবার ব্যতিক্রম যেখানে লালহলুদ বাহিনী একটা ম্যাচ ড্র করেছে অন্যটা জিতেছে। এবার দেখার ২৭শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলা ডার্বির কি ফল হয়। প্রতিদিনই আমরা দেখছি ফুটবল বিশেষজ্ঞরা এবং প্রাক্তন ফুটবলাররা ডার্বি নিয়ে নানান রকমের ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যদিও তারা সকলেই এক বাক্যে এটা স্বীকার করতে ভুলেছেন না যে, ডার্বির কোনো ভবিষ্যদ্বাণী চলেনা কারণ ওইদিন যে দল নিজেদের স্নায়ু যতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, ততটাই এগিয়ে যাবে সেই দল। খেলার ফলাফলের ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা আমিও করবোনা তবে ঠিক কেমন হতে পারে সেদিনের খেলা এবং ফলাফল, কোন কোন বিষয়গুলোর উপরে নির্ভর করছে ঐদিনের ফলাফল সেইসব নিয়ে একটু আলোচনা করা যেতেই পারে। চলুন আমরা এক এক করে দেখি নি দুটো দলের ঠিক কোন কোন বিষয়গুলোর উপরে নির্ভর করছে ঐদিনের খেলার ফলাফল :

ইস্টবেঙ্গল দলের খেলা যে বিষয়গুলোর উপরে নির্ভর করছে (পজিটিভ এবং নেগেটিভ দিকগুলো) –

১) আলেজন্দ্রো মেনান্দেজ গার্সিয়ার উপস্থিতি ইস্টবেঙ্গলের জন্য অন্যতম শক্তি হতে চলেছে, কারণ তার অভিজ্ঞতা। নানান দেশে কোচিং করানোর ফলে, তার অভিজ্ঞতা যেমন বেশি তেমনি বড় ম্যাচে নিজের স্নায়ু শক্ত রাখতে বেশি সক্ষম সে আর দলের কোচের উপরে অনেকটা নির্ভর করে এরকম ম্যাচে খেলোয়াড়দের স্নায়ু।

২) ডার্বির আগে এনরিকের উপস্থিতি, দলকে নিঃসন্দেহে আরো শক্তিশালী করে তুলেছে। আশা করাই যায় কোচ তাকে খেলাবেন এবং তিনি মাঠে নামলে, জবির যে বল পেতে অনেক সুবিধা হবে সেটা আমরা সবাই জানি কারণ আমরা অতীতেও দেখেছি তিনি একের পর এক বল তৈরি করে দিয়েছেন জবি কে।

৩) দলের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে কোলাডো এবং ডার্বি তে আশা করা যায় সে বিশেষভাবে নজর কাড়বে। শেষ ম্যাচে তার নড়াচড়া, বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের যথেষ্ট ব্যাস্ত রাখা কোনোটাই আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়নি।

৪) সেটপিস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে খেলার কারণ আমরা দেখেছি এবছরে লালহলুদ বাহিনীকে যথেষ্ট সুবিধা করতে সেটপিস থেকে। কোচ নানান রকমের কৌশল তার ফুটবলারদের রপ্ত করাচ্ছেন, ডিকা ফ্যাক্টর হতে চলেছে এগুলো Execute করার ক্ষেত্রে।

৫) মায়াই রালতে ডার্বি তে লালহলুদের অন্যতম শক্তি। আগের ডার্বিতেও তার নামের পাশে দুটো গোল লেখা আছে। নিঃসন্দেহে এই ডার্বি তেও সে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।

৬) লালহলুদের ডিফেন্সে কারা খেলবে, সেটা নিয়ে একটা টালবাহানা চলছে মনোজের লালকার্ডের পরে। কোচকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। চুললোভ-একোস্টার-বরহার সাথে কে হবেন সেটা নিয়েই চলছে পারমুটেশন-কম্বিনেশন।

৭) টনি ডোভালে এখনো ফর্মে না থাকা লালহলুদকে ভাবাবে। 3 ম্যাচ পরেও সে দাগ কাটতে ব্যর্থ, যত তাড়াতাড়ি সে মাঝমাঠে মানিয়ে নেবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করবে যেটা করতেন আল আমনা তত তাড়াতাড়ি লালহলুদের খেলা আরো উপযোগী যেমন হবে তেমন দৃষ্টিনন্দন হবে।

৮) ডার্বি তেও কাসিমকে খেলানো উচিত বলেই মনে করা হচ্ছে তাই এটাই দেখার ছয় বিদেশিদের মধ্যে কাকে বেঞ্চ করবেন তিনি। তবে মনে করে হচ্ছে, এনরিকে বেঞ্চে রেখেই কোচ খেলা শুরু করবে।

৯) জবি ছাড়া আর কোনো স্ট্রাইকার না থাকা এবং দক্ষ আন্ডার-২২ এর প্লেয়ার না থাকাটা লালহলুদের জন্য নেগেটিভ ব্যাপার।

১০) গোলকিপিং পসিশন নিয়েও সামান্য চিন্তা থাকছে লালহলুদের কারণ, রক্ষিত ডাগর কখন কি করবেন কারুর পক্ষে বোঝা সম্ভব না। কখনো দারুন দক্ষতায় কঠিন বল তিনি সেভ করছেন তো কখনো সহজ বল তিনি আটকাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। লালহলুদের প্রথম একাদশের প্লেয়ারদের মধ্যে শুধু তাকে এবং মনোজ কে একটু নড়বড়ে লাগছে। মনোজ নেই, কিন্তু রক্ষিত আছেন। তাকে চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

১১) খুব একটা দৃষ্টিনন্দন ফুটবল আমরা দেখতে পাচ্ছিনা লালহলুদের খেলায়। হ্যাঁ, শেষ কিছু ম্যাচে পাসিং ফুটবল হচ্ছে বটে কিন্তু সেটা বেশিরভাগ নিজের অর্ধে। সাথে দেখা যাচ্ছে বিপক্ষের ৮-১০ মিনিটের প্রেসিং ফুটবলের স্পেলের সামনেও ভেঙে পড়ছে লালহলুদ দল, কেঁপে উঠছে ডিফেন্স। এটাই নজর দিতে হবে আরো, যাতে বিপক্ষ প্রেসিং ফুটবল দিয়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে না পারে লালহলুদ রক্ষণে। সাথে নিজেদের মাঝমাঠ কে আরো বেশি করে সচল করতে হবে, খেলা যাতে তৈরি হয় মাঝমাঠে ঠিকঠাক ভাবে সেটা দেখতে হবে।

এই কয়েকটা বিষয় বাদ দিলে, তেমন আর কোনো কমজোর জায়গা চোখে পড়ছেনা লালহলুদে।

এবার মোহনবাগান দলের খেলা যে বিষয়গুলোর উপরে নির্ভর করছে (পজিটিভ এবং নেগেটিভ দিকগুলো) –

১) খালিদ জামিল : মোহনবাগানের কোচ হয়েছেন মিঞা, এটা ডার্বি তে দলের জন্য ভালো না চাপের সেটা সময় বলবে। লালহলুদের কোচ থাকার সময় আমরা দেখেছি মিঞা কে, বাড়তি চাপে পড়ে যেতে নিজেকে। ডার্বি বড়ো ম্যাচ, দেখা যাক মিঞা এবারে নিজেকে সামলাতে পারে কিনা, কোচ হিসেবে যদি পূর্বেরনেয় তিনি আবারো চাপে পড়ে যান, তাহলে তাতে ক্ষতিই হবে মোহনবাগানের।

২) আমরা শেষ কয়েক বছর মোহনবাগান কে ডার্বিতে আক্রমনাত্মক খেলতেই দেখেছি সে ফলাফল যাই হোক। তবে এবারে শোনা যাচ্ছে, খালিদ বলছেন আগে রক্ষণ সামলে তারপরে আক্রমণে যাবে দল। বিষয়টা মাঠে ঠিক কেমনভাবে কাজ করে সেটাই দেখার।

৩) ডিকা-হেনরি জুটি ভয়ংকর হতে চলেছে। ডার্বি কখনো ডিকা কে নিরাশ করেনা, তাকে ৯০ মিনিট সামলানো ইস্টবেঙ্গলের জন্য অসম্ভব কঠিন চ্যালেঞ্জ।

৪) সনি নর্ডির উপস্থিতি সব থেকে বড় শক্তি হতে চলেছে মোহনবাগানের জন্য। তিনি এখনো পর্যন্ত ডার্বিতে অপরাজিত। মোহনবাগান দলে সনি নর্ডির থাকা আর না থাকা যে দলের মানের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য তৈরি করে দেয় সেটা বাচ্চারাও জানে। তাই সনি কে আটকানো টা একোস্টা-চুলভা দের কাছে আসিড টেস্ট।

৫) আজহারউদ্দিন মল্লিক কে ডার্বি বয় বলা হয়, ডার্বি তে সে নামলেই গোল করে এরকম একটা বিষয় আমাদের কারুরই চোখ এড়িয়ে যায়না। ডার্বি তে তাকে অসাধারণ হয়ে উঠতে দেখি আমরা। তাকেও চোখে চোখে রাখতে হবে।

৬) জাপানিজ প্লেয়ার যুটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে মোহনবাগান দলের হয়ে। যেকোনো রকমের আক্রমণ তার পা থেকেই সাধারণত শুরু হয় মোহনবাগানের। তাই তাকে বেশি খেলতে দিলে ইস্টবেঙ্গলের বিপদ বাড়বে।

৭) মোহনবাগানের ডিফেন্স কে অনভিজ্ঞ বলা যায়, কিংসলে কে আমরা দেখেছি আগের ডার্বি তে মাথা গরম করে লাল কার্ড দেখতে। অরিজিৎ বাঘুই ভালো প্লেয়ার। কিন্তু সম্পূর্ণ ডিফেন্স লাইন এক নজরে দেখলে অনভিজ্ঞই মনে হবে লালহলুদ ডিফেন্সের তুলনায়। তাই জবি-এনরিক-কলাডো-মায়াই মিলিত আক্রমণের মোকাবিলা করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং সবুজ মেরুন শিবিরের কাছে।

যতই মিঞা রক্ষণের কথা বলুক না কেন, সবুজ মেরুন দলটা কে আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলতেই বেশি সাচ্ছন্দবোধ করে সেটা দলে থাকা প্লেয়ারদের নাম এক এক করে পড়লেই বোঝা যায়। তাই বলাই বাহুল্য এই ডার্বির সব থেকে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে খালিদ জামিলের প্লানিং। সঠিক প্লানিং করে তিনি যেমন তার দল কে কাঙ্খিত জয় এনে দিতে পারেন তেমন বাড়তি চাপে পড়ে গিয়ে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত এবং খেলার কৌশল বদল তার জন্য বুমেরাং হয়ে ফিরতে পারে।

এবার দেখা যাক, ডার্বির ম্যাচের রেজাল্ট কি দাঁড়ায়। জয় ইস্টবেঙ্গল।

Categories: Latest News

5 Comments

Sameer Chakraborty · 25th January 2019 at 11:19 AM

We winnig the derby ❤💛
Enrique & jobby score
Joy Eastbengal ❤💛

    Debargha Chatterjee · 25th January 2019 at 6:05 PM

    অসাধারণ বিশ্লেষণ

মনোরঞ্জন দাস · 25th January 2019 at 12:17 PM

গত ডার্বিতে আমরা দেখেছি যে আমাদের ডিফেন্স এর থেকেও মোহনবাগানের ডিফেন্স বেশি চাপে পড়ে গেছিলো ওদের কিংসলে আমাদের আটকাতে হিমশিম খেয়েছে এবং অনেক আগেই লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যেতে পারত তাই আমাদের দুটো ফরেনার ডিফেন্সে থাকাটা আমাদের প্লাস পয়েন্ট।ওদের ডিফেন্সে কিংসলে একা ফরেনার হিসেবে থাকাটা কিন্তু কিংস এর কাছে বেশ চাপের এবং আমাদের এবারের ডার্বিতে বেশি সুবিধাজনক জায়গা অবশ্যই এনরিকের উপস্থিতি। শুধুমাত্র সনিকে দিকে প্রবলভাবে চোখে চোখে রাখতে হবে।ওর একার হাতেই খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে বাকি সব দিক দিয়ে আমার মনে হয় টেম্পারমেন্ট কেউ আমরা এগিয়ে আছি ।আমাদের মাঝে মাঠটায় সব থেকে ভালো খেলতে হবে এবং এই মাঝমাঠে আমি সব থেকে বেশি আশা রাখি লাল রিন উপর। রালতের through and set pieces ঠিক থাকলে এই ম্যাচ কিন্তু আমরা জিততে চলেছি.

Monoranjan Das · 25th January 2019 at 12:21 PM

জয় ইস্টবেঙ্গল।

Anwesh Chakraborty · 25th January 2019 at 2:51 PM

Osadharon analysis

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!