ইতিহাসের_পুনর্নির্মাণ

Published by Aritra Das on

1920 থেকে 2019, দীর্ঘ সময়. এর মাঝে এসেছে দেশভাগের অভিশাপ . ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বর্ধিষ্ণু পরিবারগুলোর মানুষজনেরা রাতারাতি হয়ে গেছেন ছিন্নমূল . এককালে জমিদার পরিবারের মানুষ নিরুপায় হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কুমোরটুলির টালির ঘরে, খ্যাতনামা ফুটবলারের নিকত্মীয়রা শিয়ালদহ স্টেশনের প্লাটফর্মে অভুক্ত অবস্থায় কাটিয়েছেন রাতের পর রাত . নতুন দেশে মানিয়ে গুছিয়ে নিতেই তাদের কেটে গেছে কয়েক দশক আর এভাবেই হারিয়ে গেছে ইস্টবেঙ্গলের বহু গর্বের ইতিহাস .

প্রতিপক্ষ যখন ভুঁয়ো গর্বের মিথ্যে ইতিহাস রচনা করেছে, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা তখন ব্যস্ত থেকেছে পায়ের তলার জমি শক্ত করতে. স্বাধীনতার পর পাল্টি খাওয়া প্রতিপক্ষ যখন আট বাঙালের সাহায্যে জেতা একটা শিল্ড দেখিয়ে নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রামী বলে জানান দিয়েছে, তখন ব্রিটিশভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ- বাগান যৌথ ষড়যন্ত্রে বজায় রাখা “ভারতীয় ক্লাবের কলকাতা লিগে অংশগ্রহনের কোটা সিস্টেমকে” আন্দোলন করে তুলে দেওয়া ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা নিশ্চুপ থেকেছে. মাঠে জবাব দিয়েছে বরাবর কিন্তু মাঠের বাইরে সেই ইতিহাস সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে নি বা সামর্থ্যও হয় নি হয়তো .

*কেমন লাগবে যখন জানবেন ব্রিটিশ বস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনের প্রতিভূ বঙ্গলক্ষী কটন মিল ছিলো ইস্টবেঙ্গল প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের ?
*কেমন লাগবে শুনলে বাঙালির হৃদয়সম্রাট কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং ছিলেন ইস্টবেঙ্গল অনুরাগী ?
*কেমন লাগবে জানতে পারলে যে ’76এ বাগানের হয়ে আকবরের 17 সেকেন্ডের গোল নয় , 1951 তে ইস্টবেঙ্গলের পঞ্চ পাণ্ডবের দাপটে পর্যুদস্ত মোহনবাগানের 10 সেকেন্ডের মধ্যে গোল খাওয়াটাই দ্রুততম ? যা করেছিলেন সালেহ .

আজ সেসব ইতিহাস চাপা পড়ে আছে, কিন্তু একেবারে হারিয়ে যায় নি . তার সূত্র মিশে আছে আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ফুটবলারদের বংশধরদের স্মৃতিতে . যে সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালালে উঠে আসতে পারে সোনায় মোড়া গুপ্তধন, সমৃদ্ধ হতে পারি আমরা .

ইস্টবেঙ্গলিয়ান ভাই বোনেদের কাছে তাই অনুরোধ, কারোর পরিবারে বা এলাকায় বা কর্মস্থলে কোনো প্রাক্তন খেলোয়াড় (স্বাধীনতার আগে ও পরে) বা প্রবীণ কর্তা বা প্রবীণ ইস্টবেঙ্গল সদস্য সম্বন্ধে কোনো তথ্য থাকলে বা যোগাযোগ থাকলে তা জানান Parijat Maitra দাকে . উনি প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এই তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করার . একজায়গায় সংকলিত হোক সমস্ত তথ্য , আবার পুনর্জীবিত হোক অতীতের গর্বের স্বর্ণালী ইতিহাস .

লক্ষ লক্ষ সমর্থকদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সেই সোনালী ইতিহাসের চাবিকাঠি , নিজেরাই চেষ্টা করে দেখাই যাক না তা ফিরিয়ে আনতে পারা যায় কিনা ?

© রাহুল ভট্টাচার্য

Categories: Latest News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!